
ঈদ সামনে রেখে উৎসবের আমেজে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সাধারণ মানুষ ভিড় করছেন বগুড়া শহরের বিভিন্ন মার্কেটে। কিন্তুু এই আনন্দের মাঝে বিষাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে এক সংঘবদ্ধ ‘পকেটমার চক্র’। মুহূর্তের অসাবধানতায় সাধারণ মানুষের পকেট থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে কষ্টের উপার্জিত টাকা। কারও বাচ্চার ঈদের নতুন জামা কেনা হচ্ছে না, আবার কারও পুরো ঈদের আনন্দই মাটি হয়ে যাচ্ছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে।
শহরের নিউ মার্কেট, রানার প্লাজা ও হকার্স মার্কেটসহ জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ এই চক্রের শিকার হচ্ছেন। মাঝে মাঝে দু-একজন হাতেনাতে ধরা পড়লে জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করছে। কিন্তুু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—তারপরেও কেন থামছে না এই উৎপাত?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পকেটমাররা ধরা পড়ার পর পুলিশের হাতে গেলেও দুর্বল আইনের ফাঁক গলিয়ে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আসে। ফিরে এসে তারা পুনরায় একই মার্কেটে, একই কৌশলে নামছে পকেট কাটতে। অভিযোগ উঠেছে, এই দুর্ধর্ষ পকেটমার চক্রের পেছনে রয়েছে শহরের প্রভাবশালী মহলের মদদ। এমনকি বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির দুই জন কর্মকর্তার নামও উঠে এসেছে পকেটমারদের সহযোগী হিসেবে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের কাছে প্রতিকার চাইতে গেলে অনেক সময় ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে উল্টো প্রভাবশালীদের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যখন পকেটমারদের ওপর প্রভাবশালী ‘আলী’ আর অসাধু পুলিশের ছায়া পড়ে, তখন আইন যেন অন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ যেমন আতঙ্কিত, তেমনি হতাশ।
সম্প্রতি পকেটমার চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— শহরের উত্তর চেলোপাড়ার মৃত হাতেম আলীর ছেলে এনামুল, শুকুর আলী এবং মো. ডিপজল। গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার না করলেও স্থানীয়দের দাবি, এদের মতো আরও অনেকেই প্রকাশ্য দিবালোকে পকেট কেটে বেড়াচ্ছে।
বগুড়াবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই অশুভ সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে শপিং মলগুলোতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।