
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় টানা কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র জ্বালানি তেল সংকটের মধ্যে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে অবশেষে স্বস্তি ফিরে এসেছে শত শত মোটরসাইকেল চালকের মাঝে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বাবুর সক্রিয় তদারকিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন তুলনামূলক সহজেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন।
গত কয়েকদিন ধরে জেলা শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের ঘাটতি দেখা দেয়। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যে পাম্পগুলো খোলা ছিল, সেখানে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই তেল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এ পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগও ওঠে। জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছালে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বাবু নিজে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনগুলো পরিদর্শন করেন এবং তেল বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, যাতে সবাই সমানভাবে তেল পান এবং কেউ অতিরিক্ত মজুদ করতে না পারেন।
এছাড়া পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে তেল বিতরণ নিশ্চিত করা হয়। বোতল বা ব্যারেলে তেল বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়, ফলে সরাসরি যানবাহনেই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ চালকরা। লাইনে অপেক্ষমাণ এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও তেল পাচ্ছিলাম না। স্যার নিজে এসে ব্যবস্থা নেওয়ার পর দ্রুত তেল নিতে পেরেছি।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, জ্বালানি তেলের এই সংকট সাময়িক। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম চালু থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
প্রশাসনের সময়োপযোগী ও জনবান্ধব উদ্যোগের ফলে গাইবান্ধা সদরে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়েছে।