
গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার সাতটি থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা চললেও কার্যকর অভিযান ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, দারিয়াপুর, কাউন্সিল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ীরা সক্রিয় রয়েছে। সচেতন নাগরিক, অভিভাবক ও সামাজিক সংগঠনগুলো একাধিকবার মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা এবং গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করলেও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুধী সমাজের মতে, মাদকের কালো ছোবলে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে জেলার বিপুলসংখ্যক তরুণ-যুবক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মহীন যুবকদের একটি অংশ মাদকাসক্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।
একজন ক্ষুব্ধ অভিভাবক বলেন, “সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু মাদকের ভয়াল থাবা আমাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকবিরোধী নানা প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও কথিত মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় তাদের প্রভাব ও আশ্রয়দাতাদের নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের দাবি, প্রশাসনের কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান ছাড়া এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।
এদিকে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি ঘোষণা করলেও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা অব্যাহত থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
জনগণের প্রশ্ন এখন একটাই— মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন কি কঠোর অবস্থানে যাবে, নাকি নীরবতার সুযোগে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে মাদক সিন্ডিকেট?
মাদকমুক্ত গাইবান্ধা গড়তে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।