
উৎপল ঘোষ যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ ভিকটিম সামাজিক যোগাযোগ (ফেইসবুক) এর মাধ্যমে গত ২ মাস পূর্বে ময়না মল্লিক নামক ফেইসবুক আইডির সাথে কথা বলার সুবাধে ভালো সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।
গত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং ভিকটিম বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট বাসস্টান্ডে পৌছালে ময়না মল্লিক এর ভাগিনা ভিকটিমকে নিয়ে আনুমানিক রাত নয়টায় ময়না মল্লিক এর বাসায় পৌছায়। ভিকটিম বিশ্রামে গেলে তার কিছুক্ষণ পরে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন পুরুষ এসে ভিকটিমকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ এলোপাথারী চর থাপ্পর মারে এবং ময়না মল্লিককে পাশে বসিয়ে অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ধারন করে। ৭ সেপ্টেম্বর ২৩ ইং তাকে ৪/৫ জন অজ্ঞাত বিবাদী ভিকটিমকে রুপসার একটি অজ্ঞাত স্থানে আটক করে রাখে এবং মুক্তিপন হিসেবে প্রথমে ১০ লক্ষ টাকা নগদ দিতে বলে। ভিকটিম টাকা দিতে না পারায় বিবাদীরা ভিকটিমের সাথে থাকা সাইড ব্যাগ হতে রুপালী ব্যাংকের ২ টি চেকের পাতা এবং ১০০ টাকা মূল্যের ০৩ টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। ভিকটিমের সঙ্গে থাকা স্মাট মোবাইল ফোন, হাত ঘড়ি ও নগদ ৫০০০/- টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ভিকটিমকে ছেড়ে দেয়। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর ভিকটিম ব্যাংকের শাখায় গিয়ে জানতে পারে তার একাউন্ট হতে ৭৯,০০০/- হাজার টাকা বিবাদীরা উত্তোলন করে নিয়েছে। ভিকটিম কে বিভিন্ন সময় বিবাদীরা টাকার জন্য হুমকি ধামকি দেয় টাকা না দিলে ধারনকৃত ভিডিও তার আত্নীয় স্বজন ও বিভিন্ন গনমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করবে। পরবর্তীতে ভিকটিম বাদী হয়ে ভোলা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত ঘটনার পর থেকে আসামীদেরকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং অভিযান অব্যাহত রাখে।
র্যাব -৬ খুলনা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন,
গতকাল ০৫ মার্চ র্যাব-৬, খুলনা একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, আসামীরা বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানা এলাকায় অবস্থান করছে
উক্ত আভিযানিক দলটি গভীর রাতে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানাধীন পাড় ডুমুরিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামী মৃত অনন্ত কুমার ভক্তের পুত্র জিৎ ভক্ত ওরফে সোনা ভক্ত(৪২) জিৎ ভক্তের পুত্র সিদ্ধার্থ (২৮), সিদ্ধার্থ ভক্ত(১৮), পিতা-জিৎ ভক্ত, -পাড় ডুমুরিয়া চিতলমারী থানাধীন, খিলগাতী এলাকার লালন ফকির মৃত আঃ আজিজ ফকিরকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা প্রতারণার এবং অপহরন ও মুক্তিপন আদায়ের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এছাড়াও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে লোকদের ফাঁদে ফেলে এভাবে অর্থ আদায়ের সাথে জড়িত বলে জানা যায়। পরবর্তিতে গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে ভোলা জেলার ভোলা সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।