
জয় মহন্ত অলক, ঠাকুরগাঁও : প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগীদের অর্থ আত্ম স্বাদের ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। আজ দুপুরে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত অসংখ্য প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের অর্থ আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছে প্রতারণায় ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। একটি সঙ্ঘবদ্ধ ডিজিটাল প্রতারক চক্র বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রতিবন্ধী ভাতা-ভোগীদের রক্ষিত ভাতার অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে জেলার রাণীশংকৈল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগের তদন্ত করে জানা যায় রাণীশংকৈল থানার আরো ০২ জনেরসহ সারাদেশব্যাপী শত শত প্রতিবন্ধী ভাতা-ভোগীর মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস একাউন্ট (বিকাশ/ নগদ) থেকে প্রতারক চক্রটি অর্থ আত্মসাৎ করছে। এই প্রতারক চক্রটিকে ধরার উদ্দেশ্যে গেল মঙ্গলবার জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম গোবিন্দগঞ্জ থানা এলাকাসহ গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন স্থানে নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিযান পরিচালনা করে প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার মোন্নাপাড়া গ্রামের মিহির উদ্দিনের ছেলে আজম হক, একই এলাকার চন্ডিপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলাম এবং বিশ্বনাথপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শাকিল। গ্রেফতারকৃতদের নিকট থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল ফোন, সিম, বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন এর কিট, অর্থ লেনদেনের রেকর্ডপত্র ও সিপিইউ জব্দ করা হয়েছে। তাদের সাথে পুরো চক্রটির মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের কেউ জড়িত আছে কিনা বিষয়টি তদন্ত চলছে। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিজা বেগম, সহকারী পুলিশ সুপার রাণীশংকৈল সার্কেল ফারুক আহমেদ, ডি আই ওয়ান আব্দুল মতিন প্রধান, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এ বি এম ফিরোজ ওয়াহিদ, রাণীশংকৈল থানার ওসি জয়ন্ত কুমার সাহাসহ জেলার কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মীরা।
