
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে যে দলগুলো একই কাতারে ছিল, এখন তারাই সরকারি ও বিরোধী দলে বিভক্ত হয়ে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অনেকটা কাছাকাছি থাকলেও, এখন বিভিন্ন ইস্যুতে দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও রাজপথের কর্মসূচিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মাথায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্য বড় ধরনের কর্মসূচি হিসেবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করেছে। ৬ দফা দাবি সামনে রেখে আয়োজিত এই লংমার্চ থেকে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাবি পূরণ না হলে এই ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে। অন্যদিকে, সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে বিরোধী দলের আড়ালে পতিত শক্তি সক্রিয় হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সরকারি দলের নেতারা।
গত শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থায় ছিল, তাদের মধ্য থেকে কেউ অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে জামায়াতের আমীর ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পাল্টা জবাব দেন। তিনি নাম উল্লেখ না করে বিএনপি’র প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম ও দুর্নীতি করাই হলো প্রকৃত ‘গুপ্ত’। তিনি আরও বলেন, তাদের এই আন্দোলন জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন, যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়।
এদিকে, বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিরোধী দল রাজপথে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অশ্রাব্য ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করছে। জ্বালানি সংকট নিরসনে কোনো গঠনমূলক প্রস্তাব না দিয়ে তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
একই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জাতীয় সংসদ যখন কার্যকর রয়েছে, তখন রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। গত ২৭শে আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের পর স্পিকার গণতন্ত্র সচল রাখতে রুলস অব প্রসিডিউর কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
লংমার্চে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারাও কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। চট্টগ্রামের সমাবেশে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের এই অধিবেশনে এখনো আছি, তবে পরের অধিবেশনে যাওয়া নিয়ে নিশ্চিত নই। জনগণের অধিকার ও সমাধান সংসদ থেকে না এলে সংসদ ও রাজপথ একাকার হয়ে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বিরোধী জোটের কিছু দাবি যৌক্তিক হলেও মানুষ এখনো তাদের সাচ্চা বিরোধী দল হিসেবে মনে করে না। পার্লামেন্টে তাদের ভূমিকা এবং বাইরে বাঘ হওয়ার চেষ্টা স্ববিরোধী। তবে পরিস্থিতি সংঘাতের পর্যায়ে যাবে এমন লক্ষণ এখনো নেই বলে তিনি মনে করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দল জনদাবির চেয়ে রাজনৈতিক ইস্যুতেই বেশি মনোযোগী, যা সরকারকেও বেকায়দায় ফেলতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ, গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দলগুলো আলোচনা করেই অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমন অবস্থায় রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে মাঠের রাজনীনিতে ফের হানাহানি ও অতীতের দৃশ্য ফিরে আসারও শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে মানুষের কাছে নিজেদের বিরোধী দল হিসেবে তুলে ধরতে এবং একটি বিরোধী ইমেজ গড়ে তুলতে তারা চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, আমরা বিরোধী দল বলতে যেটা বুঝি, তার সঙ্গে তাদের অবস্থানের বেশ বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক প্রশ্নে মতপার্থক্য থাকবে, কথার লড়াইও থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধী দল যতটা না জনদাবি নিয়ে কথা বলছে তার চেয়ে তাদের লক্ষ্য বেশি রাজনৈতিক ইস্যুতে।