
প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্ণ করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই দলটি দীর্ঘ পথপরিক্রমায় কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, আবার কখনো প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকে দেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক যাত্রাকে মূলত তিনটি প্রধান পর্বে ভাগ করা যায়—জিয়াউর রহমানের হাতে দলের ভিত্তি স্থাপন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণভিত্তি ও নির্বাচনী শক্তি অর্জন এবং বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতার মূলমন্ত্র নিয়ে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেন। তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুর পর দলটি বড় ধরনের নেতৃত্বের সংকটের মুখে পড়েছিল।
সেই সংকটময় মুহূর্তে ১৯৮২ সালে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন খালেদা জিয়া। পরের বছর তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের কাউন্সিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি দেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী গণভিত্তি গড়ে তোলে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি আরও দুইবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান।
বর্তমানে বিএনপির তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান। মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তারেক রহমানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। অতীতে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় প্রভাব বিস্তার, সরকারি প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ব্যবহার কিংবা দলীয় পরিচয়ে সুবিধা নেওয়ার মতো যেসব অভিযোগ উঠেছিল, তা দলের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। তাই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আনুগত্য এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করা এখন দলের জন্য অপরিহার্য।
তারেক রহমান দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সংকট মোকাবিলা করা বিএনপির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল অতীত স্মরণের উপলক্ষ নয়, বরং এটি দলটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। শেষ পর্যন্ত বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কতটা কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় রূপ নিতে পারে, সেটিই হবে তারেক রহমানের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচন, সরকার পরিচালনা এবং দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতির অভিজ্ঞতা পেরিয়ে এবার নতুন বাস্তবতায় দাঁড়িয়েছে দলটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতিতে থাকার পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপিকে একই সঙ্গে সরকার পরিচালনা, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, তৃণমূলের প্রত্যাশা সামলানো, জনগণের আস্থা ধরে রাখা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার ধারণাকে সামনে রেখে দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মসূচিতে ছিল ১৯ দফা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দলটি নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর চার দশকেরও বেশি সময় বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন খালেদা জিয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে মায়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন।