
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিনের তীব্র উত্তেজনার জেরে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। তিনি এরই মধ্যে হোয়াইট হাউসে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হেগসেথের অধীনে পেন্টাগনের সর্বশেষ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ড্রিসকল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা অবস্থায় এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীতে রদবদল এবং প্রস্তুতির বিষয় নিয়ে প্রশাসনের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন ড্রিসকল। বিশেষ করে, বিভিন্ন কার্যক্রম তদারককারী জেনারেলদের সরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও তার পদত্যাগের বিষয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ড্রিসকলের মেয়াদের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। এর মধ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনা, সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ড্রিসকল সেনাবাহিনীকে দ্রুত ও সাশ্রয়ী অস্ত্র সংগ্রহের উপযোগী করে তোলার পক্ষে কাজ করছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বড় বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করে আলোচনায় আসেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ট্রাম্প তাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মনোনীত করলে তিনি নতুন করে পরিচিতি পান। তবে এপ্রিল মাসে হেগসেথ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করলে ড্রিসকলের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এই সিদ্ধান্ত ড্রিসকলকে বিস্মিত করেছিল এবং হেগসেথের প্রতি তার অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে হেগসেথ ইউরোপে দায়িত্বরত শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়া এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে দেয়ার মতো পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। পেন্টাগনের আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে ড্রিসকলকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতেন হেগসেথ। এদিকে, ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং উদ্ভাবনবিষয়ক ডেপুটি আন্ডারসেক্রেটারি ডেভ ফিটজেরাল্ডও পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
ড্রিসকলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান প্যাট হ্যারিগান বলেন, তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি তৎপরতা এনেছিলেন যেখানে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। হ্যারিগান আরও যোগ করেন, দেশের সেবায় ড্যানের অবদান এখানেই শেষ হচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে দু’জনের মধ্যে চলা উত্তেজনার মধ্যেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথমে বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেনাবাহিনীর একজন সেক্রেটারিকে এমন কূটনৈতিক ভূমিকায় যুক্ত করা ছিল বেশ অস্বাভাবিক ঘটনা।