
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরমুঘুয়া গ্রামে বৈধ ওয়ারিশদের পৈতৃক বসতভিটা জোরপূর্বক দখল ও বিধবা মা রোকেয়া বেগম (৬০) ও তাঁর চার ছেলেকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চরমুঘুয়া মৌজার সি.এস ২০, এস.এ ২০ ও বি.এস ২১৩ খতিয়ানভুক্ত ০.৩১৪ একর জমি তাঁদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত। তাঁদের নামে নামজারি ও জমা-খারিজ সম্পন্ন রয়েছে এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদও রয়েছে। ওই জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বসবাস করে আসছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি আঃ মন্নান ওরফে মনা, আবু তাহের শরীফ, আমির হোসেন, মানিক ও ইলিয়াছসহ কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্য দিবালোকে পরিবারটিকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে জমিটি দখলে নেন। এরপর থেকে রোকেয়া বেগম ও তাঁর সন্তানরা নিজেদের বসতভিটায় প্রবেশ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
পরিবারটির আরও অভিযোগ, জমি দখলের আগে ও পরে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও হয়রানি করা হয়েছে। এসবের মধ্যে কয়েকটি মামলা তদন্ত শেষে ভিত্তিহীন হিসেবে নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।
জমি পুনরুদ্ধার ও আইনগত প্রতিকারের জন্য ভুক্তভোগী পরিবার ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর আওতায় বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, চাঁদপুর আদালতে আবেদন (নং-১৪৮/২০২৬) করেছে।
ভুক্তভোগীদের আইনজীবী মোঃ সফিকুল ইসলাম ভূইয়া জানিয়েছেন, তাঁদের মক্কেলদের নামে প্রয়োজনীয় খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করের কাগজপত্র রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় দ্রুত জমির দখল পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করছেন।
অসহায় রোকেয়া বেগম ও তাঁর সন্তানদের দাবি—সরকারি নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তাঁদের পৈতৃক বসতভিটা ফিরিয়ে দিতে এবং জোরপূর্বক দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।