
ফ্যাসিবাদ যেন পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আমরা যেন নিজেরা ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠি, তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রতিবন্ধী ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর প্রতিভা বিকাশে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, দৃষ্টিহীনদের আলোর পথ দেখানো এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার মতো মহৎ কাজ আর হতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটি নীরবে-নিভৃতে যেভাবে এই মানুষগুলোকে স্বাবলম্বী করে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে সাহায্য করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রতিটি মানুষেরই সমান অধিকার রয়েছে এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ভয়াবহতা স্মরণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন হাত, পা কিংবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মানুষের মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তার ক্ষত এখনো দগদগে। নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের আহাজারি এখনো থামেনি, অথচ অপরাধীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টায় লিপ্তদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা এখনো চোখ বন্ধ করে আছেন, তাদের বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, সরকার ভুল করতে পারে, তবে সেই ভুল সংশোধন করে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে আমাদের অবিচল থাকতে হবে। বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে, দেশ গড়ার কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ এবং ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান। এছাড়াও ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের উৎসাহিত করেন। পরিশেষে, আইনমন্ত্রী সবাইকে একসঙ্গে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে।