1. reporter@youthtvnewsbd.com : reporter :
  2. youthtvnews2019@gmail.com : youthttvnews24 :
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আইনজীবীর বিতণ্ডা: এজলাস ছেড়ে বিচারকদের প্রস্থান - Youth Tv news
নোটিশ
ইয়ুথ টেলিভিশন এ বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে। এছাড়াও জেলা ব্যুরো প্রধান, বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, স্টাফ রিপোর্টার, ক্যাম্পাস  প্রতিনিধি, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নিয়োগ চলছে। আগ্রহীগণ জীবনবৃত্তান্ত, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের কপি, নাগরিক সনদের কপি ও সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে) সহ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। মোবাইল: ০১৪০৯-৯৯০৪০০, ০১৯৭২-০৮৪৬৯৬।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আইনজীবীর বিতণ্ডা: এজলাস ছেড়ে বিচারকদের প্রস্থান

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের একটি মন্তব্যের জেরে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এজলাস ছেড়ে চলে যান। এর ফলে আপিল বিভাগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার সূত্রপাত হয় দুপুরে, যখন ব্যারিস্টার খোকন সকালে দেয়া একটি জরিমানার আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য মৌখিক আবেদন জানান।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ছিল একটি রিট মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা মামলায় তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। আপিলকারী মোহাম্মদ নুর আলম এবং তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদ একই বিষয়ে একাধিক রিট আবেদন করে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে সরকার পক্ষের কৌঁসুলিরা প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এই অভিযোগে আপিল বিভাগ রিটকারী ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। আদালত নির্দেশ দেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দিতে হবে।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক জানান, ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আইনি লড়াইয়ে একই বাদী ও আইনজীবী বারবার তথ্য গোপন করেছেন। টানা তিন দিন শুনানির পর আদালত এই কঠোর অবস্থান নেন। তিনি আরও জানান, সকালে যখন আদেশটি দেয়া হয়, তখন সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু দুপুরে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন যখন বিষয়টি নিয়ে পুনরায় কথা বলতে যান, তখন ওই নারী আইনজীবী সেখানে ছিলেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, দুপুরে যখন ব্যারিস্টার খোকন জরিমানার বিষয়টি মওকুফের আর্জি জানান, তখন প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আদালত যে আদেশ দিয়েছে তা পরিবর্তন হবে না। এ সময় ব্যারিস্টার খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’ এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, এটি আদালত অবমাননার শামিল। এরপরই প্রধান বিচারপতি ও অন্য চার বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন।

এই ঘটনার পর অ্যাটর্নি জেনারেল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা ও সততার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। তিনি কোনো ধরনের প্রতারণাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। ব্যারিস্টার খোকন একজন সংসদ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য অপ্রত্যাশিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও উল্লেখ করেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের অভিভাবক এবং আদালতে মতপার্থক্য হওয়া স্বাভাবিক হলেও তা এজলাসের গণ্ডি ছাড়ানো উচিত নয়।

অন্যদিকে, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের জানান, তিনি একজন জুনিয়র আইনজীবীর ওপর ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনেক বেশি মনে করায় ন্যায়বিচারের স্বার্থেই তা মওকুফের অনুরোধ করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, তার মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মামলার শুনানি কমে যাওয়া এবং আইনজীবীদের আয় হ্রাসের বিষয়টি তুলে ধরা। তিনি বলেন, ‘আমি তো চিন্তা করি নাই যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এত রিঅ্যাক্ট করবেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার কোনো তর্ক হয়নি।

উল্লেখ্য যে, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আপিল বিভাগের কার্যক্রমে সাংবাদিকদের সরাসরি উপস্থিতির সুযোগ নেই। ফলে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দুই পক্ষের বক্তব্য ও আইনজীবীদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেই জানা গেছে। আপিল বিভাগে এমন ঘটনা এর আগে ঘটেছে কিনা তা স্মরণ করতে পারছেন না অনেক সিনিয়র আইনজীবী। গতকাল দিনভর আদালত অঙ্গনে এই ঘটনাটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাংবাদিক সংগঠনগুলো বারবার দাবি জানালেও প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত হয়নি। চাকরির আরও তথ্য: আপিল আবেদনের বিষয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক বলেন, ২০১৩ সালে অস্থায়ী কাজী নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ মামলার সূত্রপাত। চাকরির আরও তথ্য: নূর আলম ২০১৬ সালে রিট আবেদন করেন, রিট পিটিশন নম্বর ১৪৮২১। চাকরির আরও তথ্য: সেখানে অস্থায়ী নিয়োগ স্থায়ী করার আবেদন করা হয় এবং স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির নিয়োগ বাতিল চাওয়া হয়। চাকরির আরও তথ্য: এরপর ২০১৮ সালে ১৬০৮৮ নম্বর রিট আবেদন করা হয়। চাকরির আরও তথ্য: আগের মামলাগুলোর তথ্য গোপন করে ২০২১ সালে ১১৪৪৬ নম্বর এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে ৯৬৩১ নম্বর রিট আবেদন করা হয়। চাকরির আরও তথ্য: এর মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবের বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার আবেদন আনা হয়।

শেয়ার করুন...

আরো দেখুন...

Copyright © All rights reserved © 2017 Youth Television News.
Verified by MonsterInsights