
কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দেশে সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরসূচির মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, সৌদি আরবের রিয়াদ, কাতারের দোহা, জাপানের টোকিও এবং তুরস্কের আনতালিয়া। মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনেও তিনি অংশ নেবেন। বাকি তিনটি দেশ সফরের জন্য উপযুক্ত সময়সূচি নির্ধারণে কাজ চলছে।
পরিকল্পিত এই সফরগুলো বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইশতেহারে উপসাগরীয়, মুসলিম ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। সৌদি আরব ও জাপান ইতিমধ্যে তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, আর দোহার সঙ্গে বিদ্যমান ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কাতার সফর স্বল্প সময়ের নোটিশেই আয়োজন করা সম্ভব বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপির ইশতেহারে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বৃত্ত পুঁজির সঙ্গে বাংলাদেশের উৎপাদনক্ষমতা ও মানবসম্পদের সমন্বয় ঘটানো। এছাড়া খাদ্যনিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামরিক শিল্প ও প্রশিক্ষণের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে কর্মসংস্থান, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা চলছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, সৌদি আরব, জাপান ও কাতার বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। জাতীয় লক্ষ্য অর্জন এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে চায় ঢাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে ঢাকা ও দোহার শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দৃঢ় ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইশতেহারের আরেক অংশে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বিএনপির ঐতিহাসিকভাবে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, শিল্পায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার অভ্যন্তরীণভাবে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিদেশি সহায়তা, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।