
জনপ্রিয় ব্রিটিশ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নোয়েল ক্লার্কের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন এবং জনসমক্ষে অশালীন ভঙ্গি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস সম্প্রতি লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশকে এই অভিনেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করার অনুমোদন দিয়েছে। গোয়েন্দাদের জমা দেওয়া নথিপত্র পর্যালোচনার পর এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে ক্লার্কের লন্ডনের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল। সে সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যদিও সেই সময় গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি এবং পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশের সেন্ট্রাল স্পেশালিস্ট ক্রাইম কমান্ডের নেতৃত্বে একটি তদন্ত চলমান ছিল।
অভিনেতার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ। ২০২১ সালে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা ২০ জনেরও বেশি নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ক্লার্ক মানহানির মামলা করেছিলেন, তবে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে তিনি সেই মামলায় হেরে যান। আদালত তাঁকে দ্য গার্ডিয়ানের আইনি খরচ বাবদ ৩০ লাখ পাউন্ড বা ৪০ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেয়। ছয় সপ্তাহব্যাপী সেই বিচার প্রক্রিয়ায় এক ডজনেরও বেশি নারী ক্লার্কের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে অসদাচরণ ও যৌন হয়রানির সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, যদিও অভিনেতা বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
নতুন করে অভিযোগ আনার অনুমোদনের বিষয়ে গার্ডিয়ান নিউজ অ্যান্ড মিডিয়ার প্রধান সম্পাদক ক্যাথরিন ভিনার বলেন, এটি ভুক্তভোগী নারীদের জন্য একটি প্রাপ্য বিজয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া অত্যন্ত মানসিক চাপের কাজ। তবুও ২০ জনেরও বেশি নারী ভয়ভীতি উপেক্ষা করে উচ্চ আদালতে সাক্ষ্য দিতে এগিয়ে এসেছেন। ক্লার্কের বিরুদ্ধে এই আইনি প্রক্রিয়া এখন নতুন মোড় নিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের প্রত্যেকে দাবি করেন, অভিনেতার কাছ থেকে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে অসদাচরণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানুষ হাসিয়ে ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার মালিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারপরও ২০ জনের বেশি নারী উচ্চ আদালতে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন এবং তাঁরা ভয় দেখানো বা ভীত করার কাছে নতি স্বীকার করেননি।’।