
দেশের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার টুইংক ক্যারল ছোটবেলা থেকেই ‘নকশা’র নিয়মিত পাঠক ছিলেন। কিশোর বয়সে নকশার বিভিন্ন লেখা ও ছবি কেটে ডায়েরিতে জমিয়ে রাখতেন তিনি। সেই সময় থেকেই তাঁর মনে সুপ্ত ইচ্ছা ছিল নকশার প্রচ্ছদে নিজের ছবি দেখার। গত ১৩ আগস্ট নিজের ফেসবুক পেজে এই ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন তিনি। টুইংকের সেই পোস্টের জবাবে নকশা ইতিবাচক সাড়া দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছাই বাস্তবে রূপ নেয়।
টুইংক ক্যারলের কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে ওঠার যাত্রাটি বেশ ঘটনাবহুল। ২০২০ সালে কোভিড মহামারির সময় যখন সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন তিনি নিজেকে ব্যস্ত রাখতে নিয়মিত ভিডিও বানানো শুরু করেন। পড়াশোনা ও ক্লাস বন্ধ থাকায় তাঁর প্রতিদিনের রুটিন ছিল সুশৃঙ্খল। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেকআপ করে তৈরি হওয়া, সারা দিন ভিডিওর কাজ করা এবং রাতে সেগুলো এডিট করা—এভাবেই কেটেছে তাঁর সেই সময়। প্রতিদিন নতুন কী কনটেন্ট তৈরি করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করাই ছিল তাঁর মূল কাজ।
কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেই ইউটিউব ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি প্রচুর কনটেন্ট তৈরি করেন, যা তাঁকে ধীরে ধীরে পরিচিতি এনে দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাঁর সঙ্গে কাজের জন্য যোগাযোগ শুরু করে। শুরুতে ১০ হাজার টাকা দিয়ে কাজ শুরু করলেও, বর্তমানে তাঁর মাসিক আয় লাখ টাকার ওপর। এমনকি একটি আন্তর্জাতিক ফটোশুটে তিনি ৪ লাখ টাকা সম্মানী পেয়েছেন।
নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য টুইংকের পরামর্শ হলো, এই পেশায় নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বা ঘরানা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সবাই একই ধরনের কনটেন্ট তৈরি করছে, যা একঘেয়েমি তৈরি করে। তিনি মনে করেন, একজন ক্রিয়েটরের এমন একটি নির্দিষ্ট বিষয় থাকা উচিত, যা দেখলেই দর্শক বুঝতে পারবে এটি তাঁরই কাজ। যেমন তিনি নিজে নাচকে তাঁর কনটেন্টের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে রেখেছেন।
টুইংকের মতে, তাঁর আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে একাডেমিক শিক্ষার বড় ভূমিকা রয়েছে। হলি ক্রস কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁকে সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো গভীরভাবে বুঝতে এবং কাজের মধ্যে নতুনত্ব আনতে সাহায্য করেছে। মায়ের চাকরির সুবাদে ছোটবেলায় তাঁকে প্রায় নয়-দশবার স্কুল পরিবর্তন করতে হয়েছে, যা তাঁকে বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখিয়েছে।
কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে টুইংক মূলত নিজের মুড ও জীবনযাপনের ওপর নির্ভর করেন। কখনো নাচের ভিডিও, আবার কখনো ভ্রমণের কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি। ভ্রমণের ক্ষেত্রে তিনি আগে থেকে পরিকল্পনা করতে পছন্দ করেন এবং ইনস্টাগ্রাম থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে কাজের বাইরে অবসর পেলে তিনি সিনেমা বা সিরিজ দেখতে ভালোবাসেন। বিশেষ করে পুরোনো ক্লাসিক বলিউড সিনেমা ও থ্রিলারধর্মী কাজ তাঁর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে।
নিজের সাজগোজের বিষয়ে টুইংক জানান, তিনি মেকআপের ক্ষেত্রে ‘যত কম তত ভালো’ নীতিতে বিশ্বাসী। ত্বক তৈলাক্ত হওয়ায় তিনি ভারী মেকআপ এড়িয়ে চলেন এবং নিজের মেকআপ নিজেই করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত আট ঘণ্টা ঘুমই তাঁর সৌন্দর্য ধরে রাখার প্রধান রহস্য। এছাড়া চুলের ক্ষেত্রে তিনি মাঝেমধ্যেই ছোট করে কাটার নিয়ম অনুসরণ করেন, যা তাঁর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই।
ফিটনেস নিয়ে আলাদা কোনো রুটিন না থাকলেও, আগে নিয়মিত নাচের অনুশীলনের কারণে তিনি শারীরিকভাবে ফিট ছিলেন। এখন বাসায় মাঝে মাঝে ওয়ার্কআউট করেন। পোশাকের ক্ষেত্রে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। ফ্লোরাল পোশাক, স্কার্ট বা জাম্পস্যুট তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। মজার বিষয় হলো, এত বছর নাচের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি এখনো নিজে শাড়ি পরতে পারেন না, তবে ভবিষ্যতে তা শেখার ইচ্ছা আছে তাঁর।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে টুইংক জানান, অভিনয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। বড় কোনো প্রজেক্টে নিজেকে দেখার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চঞ্চল চৌধুরী একজন বড়মাপের শিল্পী, তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে সেটি হবে দারুণ এক অভিজ্ঞতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমার একসময় এমন কিছু ডায়েরি ছিল, যেসব ‘নকশা’র কেটে রাখা নানা লেখা আর ছবি দিয়ে ভরা থাকত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মঙ্গলবার আসার জন্য সত্যিই সারা সপ্তাহ অপেক্ষা করে থাকতাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন কথা হচ্ছে আমি যখন ভাবতাম, আমার নাক বোঁচা, আমি দেখতে সুন্দর না; তখনো ভাবতাম, ইশ্, যদি নকশার ফ্রন্ট পেজে আমার ছবি আসত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সময় বদলেছে…অনেক পত্রিকা আর ম্যাগাজিনে আমার লেখা ও কাজ প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু নকশায় এখনো হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই কোভিডের সময়টা অনেকের জন্য কঠিন হলেও আমার খুব ভালো কেটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটা-দুটো, তারপর তিন-চারটা কাজ করতে করতে মনে হলো, বিষয়টা তো বেশ ভালোই।