
হলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা মার্ক রাফালোর বর্তমান সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। বয়স যখন প্রায় ৩০, তখন অভিনয়ের বড় সুযোগের অপেক্ষায় থাকা এই অভিনেতা একটি গ্যারেজকে নিজের বাসস্থান বানিয়ে সেখানে দিনাতিপাত করতেন। তবে সেই কঠিন সময়ে তার প্রতিভার ওপর অবিচল আস্থা রেখেছিলেন স্ত্রী সানরাইজ কইগনি। ২০০০ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
২০২৪ সালে ‘স্মার্টলেস’ পডকাস্টে রাফালো তার জীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। ৩৩ বছর বয়সে একটি অদ্ভুত স্বপ্ন দেখার পর তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার বাম কানের পেছনে গলফ বলের আকৃতির একটি অংশ শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, সেটি মস্তিষ্কের একটি নিরীহ টিউমার বা ‘ভেস্টিবুলার শোয়ানোমা’।
সেই সময় রাফালোর স্ত্রী সানরাইজ তাদের প্রথম সন্তান জন্মের অপেক্ষায় ছিলেন, তিনি প্রায় সাড়ে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্ত্রীকে বাড়তি মানসিক চাপে ফেলতে চাননি বলে রাফালো বিষয়টি গোপন রাখেন। সন্তান জন্মের এক সপ্তাহ পর, অস্ত্রোপচারের আগের রাতে তিনি স্ত্রীকে টিউমারের কথা জানান। শুরুতে সানরাইজ বিষয়টিকে মজা ভেবেছিলেন, কিন্তু পরে গুরুত্ব বুঝে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। রাফালোর ভাষ্যমতে, সেই সংকটময় মুহূর্তে স্ত্রী তাকে সাহস জুগিয়েছিলেন।
অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকেরা রাফালোকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, এতে মুখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং এক কানের শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়; রাফালো তার বাম কানের শ্রবণশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন। এছাড়া তার মুখের বাম পাশে সাময়িক পক্ষাঘাত দেখা দেয় এবং কিছু সময়ের জন্য তিনি চোখ বন্ধ করতেও অক্ষম ছিলেন।
অবশ্য দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুখের পক্ষাঘাত ধীরে ধীরে সেরে যায় এবং প্রায় এক বছর পর সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়। তবে বাম কানের শ্রবণশক্তি আর ফিরে আসেনি। এই দীর্ঘ ও কঠিন সময়ে সানরাইজ তার পাশে ছিলেন অসাধারণ একজন সঙ্গী হিসেবে। রাফালো পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জানান, তাদের দুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই তারা সেই কঠিন সময়টি পার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
অসুস্থতা কাটিয়ে রাফালো পুনরায় অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন এবং এরপরই তার ক্যারিয়ারে সাফল্যের জোয়ার আসে। ‘দ্য কিডস আর অল রাইট’, ‘ফক্সক্যাচার’ ও ‘স্পটলাইট’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন। ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হলিউড ওয়াক অব ফেমে তাকে তারকা দিয়ে সম্মানিত করা হয়, যেখানে তার স্ত্রী ও সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন।
রাফালো ও সানরাইজের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের। ২০০০ সালে বিয়ের পর তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে—ছেলে কিন এবং দুই মেয়ে বেলা ও ওডেট। আর্থিক অনিশ্চয়তার সেই শুরুর দিন থেকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত পর্যন্ত সানরাইজের অকুন্ঠ সমর্থন রাফালোর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, যা কেবল একজন অভিনেতার অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠার গল্প নয়, বরং এক অটুট সম্পর্কেরও উদাহরণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হলিউডে পরিচিতি পাওয়ার বহু আগের কথা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থায়ী আয় বা আর্থিক নিশ্চয়তা কোনোটিই ছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমন অবস্থায় তার মনে ভয় ছিল, স্ত্রী হয়তো একদিন তাকে ছেড়ে চলে যাবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর রাফালোর অভিনয়জীবন যখন ধীরে ধীরে গতি পেতে শুরু করেছে, তখনই তাদের জীবনে আসে আরও বড় এক পরীক্ষা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বপ্নে তিনি যেন নিশ্চিতভাবেই জানতে পেরেছিলেন, তার মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাস্তবে অবশ্য তখন তার বড় কোনো উপসর্গ ছিল না, শুধু কানে সংক্রমণ হয়েছিল।