
খুলনা জেলার রূপসায় সাংবাদিকের ছেলে আব্দুল্লাহ যোবায়েরকে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে এক রাত আটকে রাখা এবং পরদিন কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে জাসাস নেতা শাহজালাল লস্করের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে রূপসা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিক মো. বাবর হোসেন বাকী জাতীয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার রূপসা প্রতিনিধি এবং রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক। তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ যোবায়ের খুলনা প্রকৌশলী কলেজে অধ্যয়নরত।
সাংবাদিক মো. বাবর হোসেন বাকী অভিযোগে বলেন, আনন্দনগর গ্রামের জাসাস নেতা শাহজালাল লস্কর গত ৮ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ যোবায়েরকে ডেকে নিয়ে যান।
পরে রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে তাঁকে নিজের বসতঘরে ঘুমিয়ে রাখেন। ওই সময় তাঁর ছেলের কাছে থাকা দুটি দামি মোবাইল ফোন ছিল। এর মধ্যে একটি অপ্পো ফাইন্ড সিরিজের মোবাইল, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং অপরটি অপ্পো মোবাইল, যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকা। এ দুটি মোবাইল ফোনের পাশাপাশি নগদ অর্থও কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে শাহজালাল লস্কর তাঁর ঘরে আব্দুল্লাহ যোবায়েরকে আটকে রেখে পরিকল্পিতভাবে গলায় চাপাটি ধরে হত্যার ভয় দেখান। পরে তাকে দিয়ে কথিত স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করা হয়। এ সময় তাকে বলা হয়, “আমি যা বলবো, তাই স্বীকার করবি।”
কিন্তু শেখানো কথা বলতে আব্দুল্লাহ যোবায়ের অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং পায়ের হাঁটুর নিচে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁর বাবা। এ সময় রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী অজ্ঞাতনামা এক ভ্যানচালক রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল্লাহ যোবায়েরকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার নিশাত তাছনিম জানান, “পেশেন্ট এখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পায়ের হাঁটুর নিচে ধারালো কিছুর কোপে রক্তাক্ত এবং ছেঁড়া-ফোলা অবস্থায় আসে। তার ক্ষতটা বেশ গভীর ছিল। তাকে একটি এক্স-রে করাতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত বোঝা যাবে।”
সাংবাদিক মো. বাবর হোসেন বাকী আরও বলেন, ঘটনার পর শাহজালাল লস্কর তাঁর মোবাইলে ভয়েস কল পাঠিয়ে জানান যে, তাঁর ছেলে তাঁর কাছে আছে।
তবে ছেলেকে মারধরের বিষয়টি তিনি হাসপাতাল সূত্রে জানতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাসাস নেতা শাহজালাল লস্কর দল থেকে বহিষ্কৃত।
তাঁর অভিযোগ, শাহজালাল লস্কর তাঁর ছেলেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষা জীবন নষ্ট করছেন,এমন বিষয় জানতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পীর কাছে বিষয়টি জানান।
পরবর্তীতে মনিরুল হাসান বাপ্পী শাহজালাল লস্করকে ডেকে শাসিয়ে বলেন, যেন আর কখনো সাংবাদিকের ছেলে আব্দুল্লাহ যোবায়েরকে ডাকা না হয়। একই সঙ্গে তাঁর নামে এ ধরনের অভিযোগ আরও অনেকেই করছেন এবং তাকে সাবধান হয়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয় বলে জানান সাংবাদিক বাবর হোসেন।
সাংবাদিক বাবর হোসেনের অভিযোগ, ওই ঘটনার কারণে শাহজালাল লস্কর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতে তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ যোবায়েরকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, শাহজালাল লস্করসহ তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁর ছেলেকে মারধর করে কুপিয়ে জখম করেছে।
তিনি বলেন, আমি এর প্রতিকার চাই। আর কোনো শিক্ষা জীবন নষ্ট করতে না পারে,এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।