
বগুড়ার নন্দীগ্রামে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম দয়ার ওপর হামলা ও মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত যুবলীগ নেতা আব্দুর রহিমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল রোববার তাদেরকে বগুড়ার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা- উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়ন যুবলীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও কৈগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম, একই এলাকার আতিকুল ইসলাম এবং রিধইল গ্রামের জাকারিয়া ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবার রাতে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডের ফিলিং স্টেশন এলাকায় সাংবাদিক নজরুলের ওপর হামলা হয়। মব সৃষ্টি করে প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিজরুল এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলার শিকার নজরুল ইসলাম দয়া দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার বগুড়া জেলা প্রতিনিধি এবং নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব।
শনিবার রাতে নন্দীগ্রাম থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। সাংবাদিককে অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে শনিবার বগুড়া শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিক নজরুল ইতিপূর্বে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ একাধিক মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন। একাধিকবার এলাকাছাড়া হওয়াসহ থানার মধ্যেও তার ওপর হামলা হয়েছিল।
নন্দীগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু মুসা সরকার বলেন, সাংবাদিক নজরুলের ওপর প্রকাশ্যে হামলা হয়। বর্তমানে তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলা মামলার এজাহারনামীয় আসামি আব্দুর রহিম বুড়ইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।