
যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের আগে তামার বাজারে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার (৩ জুন) লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে তামার দাম ০.২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি টন ৯ হাজার ৯৯৪ ডলারে। এর আগে বুধবার ধাতুটির মূল্য পৌঁছেছিল তিন মাসের সর্বোচ্চ ১০ হাজার ২০.৫০ ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির তথ্যের ওপর নজর রাখছে বাজার। দুর্বল তথ্য এলে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে, যা ডলারের মান কমিয়ে ধাতুর বাজারে চাপ ফেলতে পারে। তবে, ডলারের পতনে অন্যান্য মুদ্রায় কেনা ধাতু তুলনামূলক সস্তা হয়ে পড়ায় বছরজুড়ে তামার মতো শিল্পধাতুর চাহিদা বাড়ছে।
এদিকে, তামার দামে বড় প্রভাব ফেলছে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত তামার সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের তদন্ত। বিদ্যুৎ ও নির্মাণ খাতে ব্যবহৃত এই ধাতুতে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হলে কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ-এ মূল্য আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ-এ তামার দাম এলএমই-এর তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলার বেশি, যা বিশ্বজুড়ে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের ধাতু যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে উৎসাহিত করছে। এতে করে এলএমই-এর মজুদ কমছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত গুদামে তামার পরিমাণ কমেছে ৬৫ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯৪,৩২৫ টনে।
তবে নগদ তামা চুক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ধাতুটি আবারও এলএমই-তে ফিরে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গওয়াংইয়াং বন্দরে গুদামে তামার বেড়েছে ২ হাজার ২৫০ টন, তাইওয়ানের কাওশিয়াং-এ বেড়েছে ১ হাজার ২৫০ টন।
অন্য দিকে অ্যালুমিনিয়াম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি টন দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০৯ ডলার, জিঙ্ক ০.৩ শতাংশ কমে প্রতিটন বর্তমান মূল্য ২ হাজার ৭৪৯ ডলার, টিন ০.২ শতাংশ কমে প্রতিটনের দাম ৩৩ হাজার ৬৫৫ ডলার। কিন্তু উল্টো সিসা ও নিকেলে। সিসা ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতিটন এখন ২ হাজার ৬৮ ডলার এবং নিকেল ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতিটন নতুন দাম ১৫ হাজার ৪০৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।