
ন্যায়বিচার ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা চেয়ে রেজাউল করিম লাবু গতকাল শনিবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
বগুড়া জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি, রেজাউল করিম লাবু বলেন, আমাকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং সাংগঠনিক তদন্ত ছাড়াই বহিস্কার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন তাগ্যী নেতার প্রতি অবিচার নয়, বরং বগুড়া জেলা যুবদলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোবলে আঘাত করেছে।
রেজাউল করিম লাবু আরও বলেন, আমি ছাত্র অবস্থা থেকে জাতীয়তাবাদের আদর্শ ধারণ করে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। আমার নেতা জননেতা তারেক রহমানের নির্দেশে চব্বিশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সক্রিয় ছিলাম, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দলকে শক্তিশালী করতে মাঠে সব সময় প্রস্তুুত থেকেছি, মামলা, হামলার শিকার হয়েছি। আমার মতো একজন পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ দল পাগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না করে এমন সিদ্ধান্ত দলীয় শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, দলীয় শৃঙ্খলা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তুু শৃঙ্খলার নামে যদি অন্যায়, একতরফা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা সংগঠনকে দুর্বল করে। বহিস্কারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ঘাটতি রয়েছে, তা আমি মেনে নিতে পারছি না।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় যুবদল ও বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অবিলম্বে আমি রেজাউল করিম লাবু আমার বহিস্কারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানাচ্ছি।
আমি বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে দল আরও শক্তিশালী হবে, তৃণমূলের আস্থা ফিরে আসবে এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা সুদৃঢ় হবে।
আমি বলতে চাই আমাকে বগুড়া জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি থেকে বহিষ্কার করার আগে কোন কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয় নাই। আমার জানামতে, আমি দলীয় বিরোধী পরিপন্থ কোন কাজে জড়িত নই। দলীয় বিরোধী কোন পরিপন্থী কাজ যদি আমি করে থাকি তবে তার প্রমাণ দিতে হবে। যদি প্রমাণ দিতে পারে তবে আমি আমার নেতা তারেক রহমানের একজন তৃণমূল কর্মী হয়ে সব সময় থাকবো। আর যদি প্রমাণ না দিতে পারে তবে আমার পদ আমাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। তবে আমি প্রতিনিয়ত বলে এসেছি বগুড়া জেলা যুবদলের ১০১ সদস্যের কমিটিতে কিছু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দোসরদের পূর্ণবাসন করা হয়েছে যেটার জন্য আমি প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ করে আসতেছি। এই বগুড়ার মাটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘাটি সেখানে আমার নেতা তারেক রহমানকে কুলাঙ্গার সন্তান বলা হয়, আর এই আওয়ামী লীগের লোকজনকে জায়গা করে দিয়েছে সুবিধাবাদী নেতা, আমার নেতার অপমান আমি মেনে নিতে পারিনি বিধায় প্রতিবাদ করেছি সব সময়। আর এই প্রতিবাদ যদি দলীয় বিরোধী পরিপন্থী হয় তাহলে আমার মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আমি আমার নেতা জনাব তারেক রহমানকে আমার বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আমি যদি অপরাধী হই তাহলে আমি মাথা পেতে নিব আর যদি অপরাধ প্রমাণিত না হয় তবে আমার পথ আমাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ থাকবে।
আমি সবশেষে বলতে চাই, এই প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মধ্যেই চলবে। ন্যায়ের পক্ষে, ত্যাগী নেতাকর্মীদের সম্মানের পক্ষে আমার অবস্থান থেকে আমি এক চুলও সরে আসবো না।