
বগুড়ায় ভোল পাল্টানো রাজনীতির নগ্ন রূপ: যুবলীগ নেতা থেকে রাতারাতি ‘বিএনপি নেতা’ সাজায় ক্ষোভ। বগুড়ায় রাজনীতির মাঠে আদর্শহীনতার এক চরম দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগেও যিনি হাতে লাঠি নিয়ে রাজপথে বিএনপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন, মিছিলের অগ্রভাগে থেকে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করেছেন, সেই ব্যক্তিই এখন রাতারাতি নিজের ভোল পাল্টে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করছেন। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি বগুড়া শহর যুবলীগের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির বর্তমান সহসভাপতি পদে বহাল রয়েছেন। অথচ গত কয়েকদিন ধরে তাকে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি ধানের শীষের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়ে নিজেকে বিএনপির বড় নেতা হিসেবে জাহির করছেন তিনি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহল এই ঘটনাকে ‘সুযোগসন্ধানী ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এরা হলো রাজনীতির ‘মৌসুমি পাখি’। ক্ষমতার পটপরিবর্তন বা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এরা যে কোনো সময় নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দিতে পারে। আজ যুবলীগ, কাল বিএনপি আর পরশু অন্য দল—এটাই তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এদের কাছে রাজনৈতিক আদর্শ বা দলের চেয়ে বড় হলো নিজস্ব ফায়দা লুটা।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা জানান, বিএনপি কোনো সুযোগ সন্ধানীদের আশ্রয়স্থল নয়। এটি একটি আন্দোলনের দল, নির্যাতিত ও নিপিড়ীত মানুষের দল। এখানে জায়গা পেতে হলে দীর্ঘ ত্যাগ এবং পরীক্ষিত ইতিহাসের প্রয়োজন।
ক্ষুব্ধ এক কর্মী বলেন, “যিনি কয়েকদিন আগেও আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হতেন, আজ কোন লজ্জায় তিনি ধানের শীষের স্লোগান দেন? এরা আসলে নেতা নয়, এরা হলো রাজনৈতিক ভাড়াটে। যেদিকে সুবিধা পায়, সেদিকেই এদের পতাকা ওড়ে।”
দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কর্মীরা বলেন, এ ধরনের ভোল পাল্টানো মৌসুমী পাখিদের যেন দলে ঠাঁই দেওয়া না হয়। অন্যথায় দলের শৃঙ্খলা নষ্ট হবে এবং প্রকৃত ত্যাগীরা অবমূল্যায়িত হবেন। সুযোগসন্ধানী এই ভাড়াটেদের এখনই চিহ্নিত করে রাজনীতি থেকে বয়কট করার দাবি উঠেছে রাজপথে।