
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।
এ আলোচনায় যাঁদের নাম সাধারণ মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের কাজদিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান শেখ শাহাজালাল শান্ত।
তিনি একজন সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। প্রবাসে অবস্থান করেও দলীয় রাজনীতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের পরিচয় দিয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেখ শাহাজালাল শান্ত শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন , বরং তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, অসহায়-দরিদ্র পরিবার এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে একজন মানবিক, জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
দলের বিভিন্ন দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, সাংগঠনিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করা এবং সংকটময় সময়ে সাহস জোগানোর মতো ভূমিকার কারণে তিনি দলীয় তৃণমূল পর্যায়েও একটি আস্থার জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে শেখ শাহাজালাল শান্তর সম্পৃক্ততা অনেক দিনের। তিনি বিভিন্ন সময়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। এলাকার স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও উপকারী গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়ন কার্যক্রমেও ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারীর মতো কঠিন সময়ে, যখন বহু মানুষ কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পড়েছিল, তখন শেখ শাহাজালাল শান্ত নীরবে বিভিন্ন এলাকার দুস্থ, নিম্নআয়ের ও বিপদগ্রস্ত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সহায়তা পৌঁছে দেন। তার এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং একজন দায়িত্বশীল জননেতা হিসেবে তার ভাবমূর্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
স্থানীয় অনেকের মতে, শেখ শাহাজালাল শান্ত এমন একজন ব্যক্তি, যিনি রাজনীতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে ধারণ করে চলেছেন।
ফলে তাকে ঘিরে রূপসা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ, তৃণমূল নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তার কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি এই বিষয়গুলোই একজন জনপ্রতিনিধির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর সেই বিবেচনায় শেখ শাহাজালাল শান্ত ইতোমধ্যেই নিজেকে একজন সম্ভাবনাময়, গ্রহণযোগ্য ও আলোচিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ শাহাজালাল শান্ত বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি ) যদি আমাকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয় আমি জনগনের ভোটে নির্বাচিত হতে পারে এলাকায় মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাবো। আমি মনে করি, উপজেলা চেয়ারম্যান পদটি শুধু কোনো চেয়ার বা পদ-পদবির নাম নয়, এটি মানুষের সেবা, উন্নয়ন এবং তৃণমূলের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের একটি বড় দায়িত্ব।
রূপসা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই তৃণমূলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার ফলে আমি উন্নত সমাজব্যবস্থা, নাগরিক সেবা এবং আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।
আমি চাই, সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রূপসাকে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব উপজেলায় রূপান্তর করতে। নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে রূপসা উপজেলার সকল জনগণের একটি সমন্বিত তথ্যভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন, শ্রমজীবী মানুষের জন্য সাপোর্ট সেন্টার, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা ও পরামর্শকেন্দ্র, পেশাজীবীদের জন্য সেবা সহায়তা কেন্দ্র এবং নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সাপোর্ট সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য হবে উন্নয়ন, সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে এমন একটি রূপসা গড়ে তোলা, যা আগামী তিন বছরের মধ্যে সারা বাংলাদেশের মধ্যে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে পরিচিতি পাবে। আমি মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন নিয়ে রূপসাকে একটি আধুনিক, মানবিক ও উন্নয়নমুখী উপজেলায় পরিণত করতে বদ্ধপরিকর।
এদিকে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় শেখ শাহাজালাল শান্তকে ঘিরে আলোচনা, মূল্যায়ন ও জনমতও ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি যদি নির্বাচনী মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় হন, তাহলে রূপসা উপজেলার রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারেন।