
ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাবেক কর্মীদের পুনর্বাসন এবং মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ করেছেন তেজগাঁও থানা মহিলা দলের সাবেক সদস্য সচিব শাহানা আক্তার।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে শাহানা আক্তার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই তাকে কমিটি থেকে স্থগিত করা হয়। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, তেজগাঁও থানা মহিলা দলের সভাপতি পদে তাকে বিবেচনা করা হয়েছিল, তবে সে জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে।
শাহানা আক্তারের দাবি, দীর্ঘদিন রাজনীতি করার পরও অর্থের বিনিময়ে পদ পাওয়ার প্রস্তাব তাকে হতাশ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রুনা লায়লা তাকে বলেন—“আমরা এমনি এমনি এখানে বসি নাই, এই জায়গায় আসতে আমাদেরও টাকা দিতে হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে বাদ দিয়ে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পাওয়া লাবনী আক্তার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং তার ভাইও মাদক সংক্রান্ত মামলায় পুলিশের ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবিনা আক্তার ইভা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শাহানা।
তিনি বলেন, “যারা দীর্ঘ ২০-৩০ বছর ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং অর্থের ভিত্তিতে পদ বণ্টন করা হয়েছে। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থের বিনিময়ে পদ বণ্টন এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি দলীয় আদর্শের জন্য হুমকি হতে পারে। এতে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।