
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক।
তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতিকে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত নির্মাণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানের সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠার আদর্শ ধারণ করেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি ) দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম, নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তাঁর প্রবর্তিত ১৯ দফা কর্মসূচি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়, বরং দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা ও জনগণের কল্যাণে একটি সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনা, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তিনি বলেন, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নানা উদাহরণ সামনে আসে, তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, কর্মদর্শন ও দেশপ্রেম আজও অনুসরণীয়। তিনি ছিলেন জনগণের নেতা।
সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি শুধু পরিকল্পনাই করেননি, বরং মাঠপর্যায়ে কাজেও অংশ নিয়েছেন। দেশের খাল খনন, কৃষি উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শুধু স্মরণ করলেই হবে না, তাঁর আদর্শকে বুকে লালন করতে হবে এবং ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং বিএনপির আদর্শ ও উন্নয়নের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
জনগণের ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমেই বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
তিনি ৩০ মে (শনিবার ) সকালে রূপসার পৃথক পৃথক স্থানে মহান স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবক্তা,শহীদ রাষ্ট্রপতি, বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও তাবারক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি প্রথমে আইচগাতী ইউনিয়নের সেনেরবাজার ঘাট এলাকায় সাবেক ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ কর্তৃক আয়োজিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কালো ব্যাচ ধারন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও তাবারক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তৃা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা বিএনপির সদস্য মল্লিক আব্দুছ ছালাম, বিএনপি নেতা আবু সাঈদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, মোঃ খোরশেদ আলম, শফিকুল ইসলাম, ইমতিয়াজ আলী সুজন প্রমূখ।
এরপর তিনি পালেরহাট আজগড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে শ্রীফতলা ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, ও তাবারক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা বিএনপির সদস্য মোল্যা কবীর হোসেন, জেলা তাতিদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল আলম লোটাস, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক জাকির হোসেন জমাদ্দার, শ্রীফতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম বকুল, সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ইজারাদার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক মোল্যা সিরাজুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব রেজাউল করিম ছোট।
উক্ত অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিএনপি নেতা হাফেজ মাও: জাহিদুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজা, আবুল কালাম, মোঃ ইউনুস আলী, নাসির শেখ, মোজাফফর হোসেন, রুতাপ শেখ, সালাম শেখ, ইউনুস আলী ফকির, ইয়াসিন সরদার, মাহবুর ঢালী, জাহিদ শেখ, রুহুল হালদার প্রমূখ।