
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে গাজীপুরে সিফাত আবদুল্লাহ (২০) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আজ শুক্রবার সকাল সোয়া আটটার দিকে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিফাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মামলার বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সিফাত আবদুল্লাহ রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী এবং গাজীপুর মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার বাসিন্দা সিকান্দরের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সিফাত বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন কটূক্তিমূলক মন্তব্য প্রকাশ করছিলেন। সম্প্রতি তাঁর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের নজরে আসে এবং তাঁরা গাছা থানায় অভিযোগ জানান। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীরা সিফাতের মুক্তির দাবিতে গতকাল রাতে গাছা থানার সামনে অবস্থান নেন। রাত দুইটার পর তাঁরা থানা এলাকা ত্যাগ করেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান দাবি করেছেন, সিফাত এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক। তিনি এনসিপি ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেন। আলী নাছের খান সিফাতকে অহেতুক গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবি করে তাঁর ফেসবুক আইডিতে একাধিক পোস্ট ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সর্বশেষ এক পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, সিফাত ইস্যু এখন জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তাঁকে মুক্তি না দিলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক রূপ নেবে।
এনসিপির নেতা-কর্মীদের দাবি, সিফাত জুলাই আন্দোলনের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম, সিদ্ধান্ত এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সমালোচনা করতেন। সিফাতের ফেসবুক আইডিতে থাকা ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে তাঁকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। ওই ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তাঁর বাসায় গত মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং চলতি মাসে চার হাজার টাকা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে।