
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ফেডারেল আদালতের বিচারক ডেবোরাহ এল. বোর্ডম্যান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বা বার্থরাইট সিটিজেনশিপের পরিধি সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বুধবারের এই রায়ে বিচারক স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগটি সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় নিশ্চিতভাবেই অসাংবিধানিক।
বিচারকের পর্যবেক্ষণ ও আইনি প্রেক্ষাপট
- বিচারক বোর্ডম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত একজন ফেডারেল বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- এর আগেও তিনি ট্রাম্পের ২০২৫ সালের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ কার্যকরে বাধা প্রদান করেছিলেন।
- গত ৬ আগস্ট ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশটি জারি করেন, যার লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করা।
- আদেশটিতে মূলত বিদেশি সরকারের কর্মী, শত্রু হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তান এবং বার্থ ট্যুরিজমের সাথে জড়িতদের লক্ষ্য করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, তাদের নতুন আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, আদালতের রায়ে যেসব সীমিত ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে, তার আওতায় কিছু শিশুকে নাগরিকত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব। তবে বিচারক বোর্ডম্যান এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যে শ্রেণির শিশুদের নিয়ে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, তাদের নাগরিকত্বের অধিকার সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে।
আদেশের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই
বিচারকের এই রায় ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে স্থায়ীভাবে বাতিল করেনি, বরং চলমান আইনি প্রক্রিয়ার সময় নির্দিষ্ট শ্রেণির শিশুদের ওপর এই আদেশ কার্যকর করা স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে মামলার পরবর্তী ধাপ এবং উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই বিষয়টির ভাগ্য নির্ভর করছে। গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে যাদের বাবা-মা অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে অবস্থান করছেন, তারাও সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মের সুবাদে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য।
বুধবারের রায়ে বিচারক বোর্ডম্যান আরও বলেন, নতুন আদেশের মাধ্যমে এমন শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আগেই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি সংস্থাগুলো এখন মামলার আওতাভুক্ত শিশুদের নাগরিকত্বের নথি আটকে রাখতে পারবে না। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই রায় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায় বিবেচনায় নিয়েই নতুন আদেশ তৈরি করা হয়েছে এবং তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই দ্বন্দ্বের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বার্থরাইট সিটিজেনশিপ নিয়ে আইনি জটিলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
প্রতিনিধির নাম 

























