​নন্দীগ্রামে পুকুর নিয়ে বিরোধে হামলা ও মারধর, আদালতে রায় পেয়েও আক্রমণের শিকার ভুক্তভোগী

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় পুকুরের মালিকানা ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অতর্কিত হামলা, মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের দাশগ্রাম (সোনারপাড়া) গ্রামে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মো: কোরবান আলী (৪২) বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে নন্দীগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দাশগ্রাম সোনারপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মো: কোরবান আলী তাঁর নিজ গ্রামের ২৪ শতকের একটি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। পুকুরটিতে তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ মণ মাছের পোনা ফেলেন। গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকালে তিনি পুকুরে মাছ ধরতে গেলে একই গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে গোলাম মোস্তফা (টুনু), কোরবান আলী, মিজানুর রহমান, রব্বানী ও শফিকুল ইসলাম তাঁকে বাধা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।

​ভুক্তভোগী কোরবান আলী জানান, পুকুরের বিষয়ে আদালত থেকে তাঁর পক্ষে আসা রায়ের (মামলা নম্বর-১৫০/২০১৮) কথা জানালে অভিযুক্তরা তা অমান্য করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তা ঘাড়ে লেগে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারা হয় এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

​কোরবান আলীর ডাক-চিৎকারে তাঁর বৃদ্ধ বাবা মো: মজিবর রহমান তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকেও মারধর করে রক্তাক্ত ও জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

​ঘটনার পর ভুক্তভোগী কোরবান আলী ও তাঁর পিতা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ শেষে নন্দীগ্রাম থানায় আইনি প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

​নন্দীগ্রামে পুকুর নিয়ে বিরোধে হামলা ও মারধর, আদালতে রায় পেয়েও আক্রমণের শিকার ভুক্তভোগী

আপলোডের সময় : 07:31:39 pm, Wednesday, 14 October 2026

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় পুকুরের মালিকানা ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অতর্কিত হামলা, মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের দাশগ্রাম (সোনারপাড়া) গ্রামে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মো: কোরবান আলী (৪২) বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে নন্দীগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দাশগ্রাম সোনারপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মো: কোরবান আলী তাঁর নিজ গ্রামের ২৪ শতকের একটি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। পুকুরটিতে তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ মণ মাছের পোনা ফেলেন। গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকালে তিনি পুকুরে মাছ ধরতে গেলে একই গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে গোলাম মোস্তফা (টুনু), কোরবান আলী, মিজানুর রহমান, রব্বানী ও শফিকুল ইসলাম তাঁকে বাধা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।

​ভুক্তভোগী কোরবান আলী জানান, পুকুরের বিষয়ে আদালত থেকে তাঁর পক্ষে আসা রায়ের (মামলা নম্বর-১৫০/২০১৮) কথা জানালে অভিযুক্তরা তা অমান্য করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তা ঘাড়ে লেগে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারা হয় এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

​কোরবান আলীর ডাক-চিৎকারে তাঁর বৃদ্ধ বাবা মো: মজিবর রহমান তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকেও মারধর করে রক্তাক্ত ও জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

​ঘটনার পর ভুক্তভোগী কোরবান আলী ও তাঁর পিতা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ শেষে নন্দীগ্রাম থানায় আইনি প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।