
ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে অ্যালার্জিজনিত ঝুঁকি কমাতে নতুন ও বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। পাঁচ বছর বয়সী শিশু বেনেডিক্ট ব্লাইথের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তার পরিবারের দীর্ঘ প্রচারণার ফলস্বরূপ এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর স্কুলে গরুর দুধের প্রোটিনের সংস্পর্শে আসার পর প্রাণঘাতী অ্যানাফাইল্যাক্সিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেনেডিক্টের মৃত্যু হয়। ইনকোয়েস্টের তথ্যানুযায়ী, ওইদিন স্কুলে তার জন্য ওট মিল্ক আলাদা করে রাখা থাকলেও, ভুলবশত তাকে গরুর দুধের প্রোটিনযুক্ত পানীয় দেওয়া হয়েছিল, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বেনেডিক্টের মৃত্যুর পর তার মা হেলেন ও বাবা পিটার ব্লাইথ স্কুলে অ্যালার্জি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবিতে জোরালো প্রচারণা শুরু করেন। তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই নতুন এই বিধিবদ্ধ নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ইংল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই নতুন নীতিমালা প্রকাশ করে, যা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুলগুলোর জন্য কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশনার আওতায় প্রতিটি স্কুলকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর অ্যালার্জি নিরাপত্তা নীতি তৈরি এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া, সব স্কুলকর্মীকে অ্যালার্জি সম্পর্কে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিটি স্কুলে অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন অটো-ইনজেক্টর মজুত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী প্রথমবার গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার শিকার হলেও দ্রুত চিকিৎসা সেবা পায়।
বেনেডিক্টের পরিবার এই নতুন নিয়ম চালুর বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, শিক্ষক ও স্কুলকর্মীরা যাতে বাস্তবে এই নিয়মগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্কুলগুলোতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।