
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ এলাকার মতিন স্পিনিং মিলস গেট সংলগ্ন স্থানে নির্মম সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি ঢাকা মোহাম্মদপুর থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে কাশিমপুর এলাকায় পৌঁছালে উত্তর চন্দ্রা গ্রামের মোঃ আব্দুল রাজ্জাক, তার ছেলে ও ভাগ্নে বিকাশসহ আরও ১৫–২০ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। পরে তাকে রাজ্জাকের মুদি দোকানে আটকে রেখে রাত ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শারীরিক নির্যাতন, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (বি.সি.পি.সি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান এক বিবৃতিতে বলেন“এই বর্বরোচিত হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর নয়, এটি মুক্ত সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরও সরাসরি আঘাত। দোষীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় আমরা সারাদেশে সাংবাদিকদের নিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করব।”
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (বি.সি.পি.সি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার বলেন “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার হুমকির মুখে পড়বে। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।”
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন জানান, বাংলাদেশ রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান মিয়া তার পক্ষ নিয়ে কথা বলায় সন্ত্রাসীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং বলেন,আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ৮১ হাজার টাকা না দিলে তোকে লাশ বানিয়ে ফেলব।” এছাড়া, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
হামলার পরপরই তিনি কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান -কে মুঠোফোনে বিষয়টি অবহিত করলে ওসি প্রথমে “ব্যবস্থা নিচ্ছি” বলে আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে আর কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি।
পরে নুরুজ্জামান মিয়া ও ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি।
লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী।
এদিকে, হামলার ঘটনার পর সারদাগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে, কিন্তু প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (বি.সি.পি.সি) স্পষ্ট ভাষায় জানায়— “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে আরও বলা হয়েছে— “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সাংবাদিক বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মনের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের বর্বর ঘটনার পুনরাবৃত্তির সাহস না পায়।”