
গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে স্থানীয় জনতার হাতে তিন ডাকাত আটক হয়েছেন। পরে গণপিটুনির শিকার ওই তিনজনকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তুলসীঘাট পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন কাশদহ এলাকার একটি ইটভাটার পাশের পাকা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. নাজমুল হক (পিতা মৃত ভুট্টু মিয়া), সাদুল্লাপুর উপজেলার মো. বাপ্পি ব্যাপারী (পিতা মো. আসাদুল ব্যাপারী) এবং বর্তমানে পলাশবাড়ী নিবাসী মো. এরশাদ মিয়া (২৭), পিতা মো. গাবুর আলী।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মুরারীপুর এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি পিকনিক শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তারা কাশদহ প্রথম ব্রিজের পশ্চিম পাশে ৬-৭ জন লোককে মুখে মাস্ক ও মাফলার পেঁচিয়ে সন্দেহজনকভাবে বসে থাকতে দেখেন। তাদের গতিবিধি দেখে ডাকাতির আশঙ্কা হলে মোটরসাইকেল আরোহীরা দ্রুত সামনে গিয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামের শতাধিক মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ডাকাতদের ঘেরাও করে। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে তিনজনকে একটি মোটরসাইকেল ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়। উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় এবং পরে পাশের এক কাঠ ব্যবসায়ীর দোকানে আটকে রাখে।
খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটককৃতদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রাতেই গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা ডাকাতির উদ্দেশ্যেই সেখানে সমবেত হয়েছিল বলে স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও ৩-৪ জন সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে গাইবান্ধা সদর থানা