
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। বিশেষ করে এরশাদ নগর বস্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন পারুল ও তাঁর স্বামী মানিক।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রকাশ্যেই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পারুল এরশাদ নগর এলাকার অন্যতম প্রভাবশালী মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক সংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি নির্বিঘ্নে তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, তাঁর স্বামী মানিক নিজেকে ‘যুবদল নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এলাকাবাসীর মতে, এই রাজনৈতিক পরিচয়ই তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রধান ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মানিকের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পারুলের মাদক ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, এরশাদ নগর বস্তির ভেতরে ইয়াবা, গাঁজা সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য। পুরো নেটওয়ার্কটি পারুল-মানিক দম্পতির নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হয় বলে দাবি তাদের। কেউ প্রতিবাদ করলে মামলা বা রাজনৈতিক চাপের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে সখ্যতার কারণে বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছেন এই দম্পতি—এমন অভিযোগও উঠেছে। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা অধরাই থেকে যাচ্ছেন বলে জানায় স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে টঙ্গীর তরুণ সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সুশীল সমাজের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক না কেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে তারা বলেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে টঙ্গীকে মাদকমুক্ত করতে হবে।