1. reporter@youthtvnewsbd.com : reporter :
  2. youthtvnews2019@gmail.com : youthttvnews24 :
দূষণ যতটুকু, ক্ষতিপূরণও দিতে হবে ততটুকু: পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক - Youth Tv news
নোটিশ
ইয়ুথ টেলিভিশন এ বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে। এছাড়াও জেলা ব্যুরো প্রধান, বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, স্টাফ রিপোর্টার, ক্যাম্পাস  প্রতিনিধি, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নিয়োগ চলছে। আগ্রহীগণ জীবনবৃত্তান্ত, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের কপি, নাগরিক সনদের কপি ও সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে) সহ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। মোবাইল: ০১৪০৯-৯৯০৪০০, ০১৯৭২-০৮৪৬৯৬।

দূষণ যতটুকু, ক্ষতিপূরণও দিতে হবে ততটুকু: পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

মোঃ খলিলুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২০ বার

শিল্পকারখানাসহ পরিবেশের ক্ষতি সাধনকারী যেকোনো প্রতিষ্ঠান যতটুকু বায়ু ও পানি দূষণ করবে, ঠিক ততটুকু ক্ষতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। নীলফামারী জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় জেলার জুটমিল কারখানা, শিল্পকারখানা, ইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি ও উদ্দ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়। এর সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। উন্নয়ন ও শিল্পায়নের প্রয়োজন রয়েছে, তবে সেই উন্নয়ন কোনোভাবেই পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে না। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান তার কার্যক্রমের মাধ্যমে যতটুকু বায়ু, পানি বা অন্যান্য পরিবেশগত দূষণ সৃষ্টি করবে, সেই দূষণের কারণে পরিবেশের যে পরিমাণ ক্ষতি হবে, তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ ভবিষ্যতে আর থাকবে না।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, শিল্পকারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তরল বর্জ্য পরিশোধন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলেই হবে না, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পরিকল্পিত শিল্পায়ন ও উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে জুটমিল কারখানা, শিল্পকারখানা, ইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও সচেতন হতে হবে। ইটভাটার মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারের নিয়ম মেনেই ইট তৈরী করতে হবে।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক নুর আলম, প্রকল্প পরিচালক আহমেদ কবীর, বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক নুরেল হক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ হসপিটাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রউফ, ইটভাটা সমিতির সদস্য মো. সেলিমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য যাতে খাল-বিল, নদী-নালা বা কৃষিজমিতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিল্পকারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র, মনিটরিং ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের করণীয় সম্পর্কেও সচেতন করা হয়।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক সভা ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নীলফামারীতে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষা আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন...

আরো দেখুন...

Copyright © All rights reserved © 2017 Youth Television News.
Verified by MonsterInsights