
চট্টগ্রাম নগরীতে আতঙ্কের আরেক নাম কিশোর গ্যাং। তুচ্ছ ঘটনায় মারামারি, খুনাখুনি চলছেই। শহরে একের পর এক অপকর্ম ঘটিয়ে চলেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। কিছুতেই যেন থামছে না তাদের অপকর্ম। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য গত দুই মাসে এই বন্দর নগরীতে দুইটি হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়। কিশোর গ্যাং এর সাদেক ও রমজান নামে দুই গ্রুপের মধ্যে পোষাক কারখানার টাকা নিয়ে পূর্বে থেকেই দন্দ্ব চলে আসছিল বলে জানা যায়। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ০৯ মে ২০২৪ ইং রাতে আকমল আলী রোডে আবারও মারামারি হয় । এ সময় পোশাক শ্রমিক মেহেদী ও রিফাত তাদের মারামারির মধ্যে পড়ে যায়। এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত হন দুজন। তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেদীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে সিএমপি, চট্টগ্রামের ইপিজেড থানায় ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করেন। খুলনা র্যাব -৬ সুত্র থেকে জানা যায়, খুলনার গোয়েন্দা দল তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারে হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত আসামী বাগেরহাটে অবস্থান করছে। ঘটনাটি জানার পর র্যাব-৬ (সদর কোম্পানি) খুলনার আভিযানিক দল ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর এ হত্যার সাথে জড়িত আসামীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রাখে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৬ (সদর কোম্পানি) খুলনার একটি চৌকস আভিযানিক দল ১৫ মে ২০২৪ খ্রিঃ রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানাধীন পোলেরহাট বাজার, মাদরাসা মোর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর কিশোর মেহেদী হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামী মোঃ শাকিল খান (২৩), পিতা- হানিফ খান, সাং- মধ্য চিংড়াখালী, থানা- মোড়েলগঞ্জ,জেলা- বাগেরহাটকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী উক্ত হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইপিজেড থানা, চট্টগ্রামের নিকট হস্তান্তর করা হয়।