
ঢাকার একটি মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা করতেন শান্তা কবীরের তিন সন্তান। ওই স্কুলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন চ্যারিটি মেলার আয়োজন করা হতো। সেই মেলাগুলোতে শান্তা কবীর নিজের নকশা করা পোশাক বিক্রির জন্য নিয়ে যেতেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর তৈরি পোশাকগুলো বিক্রি হয়ে যেত এবং সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ স্কুলের চ্যারিটি ফান্ডে জমা দেওয়া হতো। এই উদ্যোগের মাধ্যমেই স্কুলের অভিভাবকদের মধ্যে তাঁর পোশাকের পরিচিতি বাড়তে থাকে এবং একসময় নিয়মিত অর্ডার পেতে শুরু করেন তিনি। এভাবেই মূলত ‘আজুরা’ ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়।
পরিবারের প্রয়োজনে একসময় শখের কাজ থেকে কিছুটা বিরতি নিয়েছিলেন শান্তা কবীর। তবে সন্তানরা বড় হওয়ার পর তিনি আবারও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেন। বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও তিনি নিজের কাজের প্রসার ঘটান। ২০২৩ সালে একটি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সময় তিনি জানতে পারেন, মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরের রংধনু মার্কেটে একটি দোকান খালি হচ্ছে। মিরপুরের বাসিন্দা হওয়ায় তিনি সেখানেই আজুরার প্রথম অফলাইন আউটলেট খোলার সিদ্ধান্ত নেন।
আজুরার পোশাকের বিশেষত্ব হলো এর কাটিং ও ডিজাইন, যা সব ধরনের শারীরিক গড়নের মানুষের জন্য মানানসই। ব্র্যান্ডটি মূলত দেশীয় কাপড় ও ভেজিটেবল ডাইয়ের পোশাক নিয়ে কাজ করে। শান্তা কবীর তাঁর পোশাকে দেশীয় ঐতিহ্যের সাথে আন্তর্জাতিক ধারার এক চমৎকার সমন্বয় ঘটান। তাঁর এই নান্দনিক কাজের সুবাদে আজুরার পরিচিতি এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেন শান্তা কবীর। সেখানে আজুরার পোশাক চীনা নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং তাঁরা ব্র্যান্ডটির নিয়মিত ক্রেতায় পরিণত হন। এমনকি অনেকে বাংলাদেশে এলে মিরপুরের সেই ছোট্ট আউটলেটটিতেও ঘুরে যান। দেশীয় উপকরণের ব্যবহারে তৈরি পোশাকের এই আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আজুরাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।