
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১২টা থেকে কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজন ও কয়েকজন বহিরাগত তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতের হাড় ভেঙেছে বলেও দাবি করেন তারা।
তবে নিহত রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের দেওয়া ভুল ইনজেকশনের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, পরবর্তীতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাদের সঙ্গে থাকা ছয়জনকে মারধর করে হাসপাতালের ভেতরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখেন।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, মারামারির খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ হাসপাতালে যায়। সেখানে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা করেছেন।
ওসি আরও জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ওই ছয়জনকে উদ্ধার করে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজন অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।