
শ্রম কল্যাণ অধিদপ্তর রোডে বর্জ্য অপসারণে অনিয়মের অভিযোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশু-বয়স্কসহ এলাকাবাসী
গাইবান্ধা পৌরসভার সরকারপাড়া শ্রম কল্যাণ অধিদপ্তর রোডে স্থাপিত দুটি স্থায়ী ডাস্টবিন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পরিষ্কার না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। ডাস্টবিনে জমে থাকা গৃহস্থালি বর্জ্য, পচনশীল ময়লা, পলিথিন ও প্লাস্টিক উপচে পড়ে সড়কের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রম কল্যাণ অধিদপ্তর সংলগ্ন সড়কের পাশে পৌরসভা নির্মিত দুটি কংক্রিটের ডাস্টবিন বর্জ্যে কানায় কানায় পূর্ণ। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হওয়ায় ডাস্টবিনের বাইরেও ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে। ফলে পথচারীদের চলাচলে যেমন দুর্ভোগ হচ্ছে, তেমনি আশপাশের পরিবেশও নোংরা হয়ে পড়েছে।
এই সড়কের কাছেই রয়েছে উত্তরপাড়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মসজিদ। প্রতিদিন ছোট ছোট শিশু, শিক্ষক, অভিভাবক, মুসল্লি ও বয়স্ক মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। ডাস্টবিনের পচা ময়লা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ এবং মশা-মাছির উপদ্রব তাদের জন্য তৈরি করছে অস্বস্তিকর ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ।
বিশেষ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, যেখানে শিশুদের নিয়মিত যাতায়াত, সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমিয়ে রেখে কীভাবে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব?
তবে স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, গাইবান্ধা পৌর এলাকার অন্য কিছু সড়কে নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার করা হলেও সরকারপাড়া শ্রম কল্যাণ অধিদপ্তর রোডের এই দুটি ডাস্টবিন কেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না?
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গোডাউন রোড, মুহুরিপাড়া ও পশ্চিমপাড়া রোডে নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার করতে দেখা গেলেও সরকারপাড়ার এই অংশে দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে ময়লা জমে থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে এলাকাভেদে কোনো ধরনের বৈষম্য বা সমন্বয়হীনতা রয়েছে কি না—সে প্রশ্নও উঠছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাস্টবিন স্থাপন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; নির্দিষ্ট সময় পরপর সেগুলো পরিষ্কার করে বর্জ্য অপসারণ করাও পৌর কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু নিয়মিত অপসারণ না হওয়ায় ডাস্টবিনের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে বর্জ্য রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে।
দীর্ঘদিন জমে থাকা পচনশীল বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এমন পরিবেশ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারপাড়া শ্রম কল্যাণ অধিদপ্তর রোডের এই দুটি ডাস্টবিন অবিলম্বে পরিষ্কার করে জমে থাকা সব বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে কেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়নি, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পাশাপাশি পৌর এলাকার সব সড়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, ডাস্টবিন পরিষ্কার এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের নির্দিষ্ট সময়সূচি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তাদের প্রশ্ন একটাই—পৌরসভার একটি এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলতে পারলে সরকারপাড়া শ্রম কল্যাণ অধিদপ্তর রোডে কেন একই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে না?
এখন দেখার বিষয়, এলাকাবাসীর এই অভিযোগ ও প্রশ্নের বিষয়ে গাইবান্ধা পৌর কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়।