আইফেল টাওয়ারে হিন্দু প্রতিনিধি দলের সফর নিয়ে বিতর্ক: নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ

প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধি দলের ব্যক্তিগত সফরকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন বোচাসানওয়াসি অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা বা বিএপিএস-এর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল টাওয়ারটি পরিদর্শনে যান। অভিযোগ উঠেছে, এই প্রতিনিধি দলের উপস্থিতির সময় আইফেল টাওয়ারের নারী কর্মীদের তাদের কর্মস্থল থেকে সরে গিয়ে আড়ালে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের ইউনিয়ন প্রতিনিধি দিয়ান দাভোয়েন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলটি যখন টাওয়ারে অবস্থান করছিল, তখন নারী কর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এমনকি তাদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া, প্রতিনিধি দলের চলাচলের সময় নারী কর্মীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে যাতায়াত না করার কঠোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল বলে কর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে গত ৭ সেপ্টেম্বর কর্মীরা আইফেল টাওয়ারের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। তারা ভবিষ্যতে কোনো নারী কর্মীকে এমন বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির মুখে না ফেলার নিশ্চয়তা দাবি করেন। কর্মীদের এই প্রতিবাদের মুখে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার দ্রুত এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভে এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, অন্যদের স্বাগত জানানোর অর্থ এই নয় যে, নিজেদের মূল্যবোধ বিসর্জন দিতে হবে। তিনি নারী-পুরুষের সমতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বিএপিএস প্রতিনিধিরা প্যারিসের উপকণ্ঠে বুসি-সাঁ-জর্জ এলাকায় তাদের নতুন একটি হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্দিরটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

এদিকে, বিএপিএস সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অন্য দর্শনার্থীদের অসুবিধা এড়াতে আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষই এই ব্যবস্থা নিয়েছিল। অন্যদিকে, আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকেই নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই অনুরোধের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আইফেল টাওয়ারে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি এখন কেবল কর্মীদের প্রতিবাদের বিষয় নয়, বরং ফ্রান্সের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারী-পুরুষের সমতা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার জানিয়েছেন, তিনি কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়টি অবগত আছেন এবং তাদের অসন্তোষকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন। এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আইফেল টাওয়ারে ব্যক্তিগত সফরে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা প্রতিবাদে নামার পর প্যারিস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফ্রান্সের উপকণ্ঠে সংগঠনটির একটি নতুন হিন্দু মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাদের প্রতিনিধিরা সেখানে ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দাঁড় করানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকজন নারী কর্মীকে তাদের পদ ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যেতে বলা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছু কর্মস্থলে তাদের পরিবর্তে পুরুষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদরদফতর, ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে

Verified by MonsterInsights

আইফেল টাওয়ারে হিন্দু প্রতিনিধি দলের সফর নিয়ে বিতর্ক: নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ

আপলোডের সময় : 09:17:43 am, Tuesday, 8 September 2026

প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধি দলের ব্যক্তিগত সফরকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন বোচাসানওয়াসি অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা বা বিএপিএস-এর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল টাওয়ারটি পরিদর্শনে যান। অভিযোগ উঠেছে, এই প্রতিনিধি দলের উপস্থিতির সময় আইফেল টাওয়ারের নারী কর্মীদের তাদের কর্মস্থল থেকে সরে গিয়ে আড়ালে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের ইউনিয়ন প্রতিনিধি দিয়ান দাভোয়েন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলটি যখন টাওয়ারে অবস্থান করছিল, তখন নারী কর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এমনকি তাদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া, প্রতিনিধি দলের চলাচলের সময় নারী কর্মীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে যাতায়াত না করার কঠোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল বলে কর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে গত ৭ সেপ্টেম্বর কর্মীরা আইফেল টাওয়ারের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। তারা ভবিষ্যতে কোনো নারী কর্মীকে এমন বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির মুখে না ফেলার নিশ্চয়তা দাবি করেন। কর্মীদের এই প্রতিবাদের মুখে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার দ্রুত এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভে এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, অন্যদের স্বাগত জানানোর অর্থ এই নয় যে, নিজেদের মূল্যবোধ বিসর্জন দিতে হবে। তিনি নারী-পুরুষের সমতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বিএপিএস প্রতিনিধিরা প্যারিসের উপকণ্ঠে বুসি-সাঁ-জর্জ এলাকায় তাদের নতুন একটি হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্দিরটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

এদিকে, বিএপিএস সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অন্য দর্শনার্থীদের অসুবিধা এড়াতে আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষই এই ব্যবস্থা নিয়েছিল। অন্যদিকে, আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকেই নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই অনুরোধের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আইফেল টাওয়ারে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি এখন কেবল কর্মীদের প্রতিবাদের বিষয় নয়, বরং ফ্রান্সের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারী-পুরুষের সমতা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার জানিয়েছেন, তিনি কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়টি অবগত আছেন এবং তাদের অসন্তোষকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন। এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আইফেল টাওয়ারে ব্যক্তিগত সফরে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা প্রতিবাদে নামার পর প্যারিস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফ্রান্সের উপকণ্ঠে সংগঠনটির একটি নতুন হিন্দু মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাদের প্রতিনিধিরা সেখানে ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দাঁড় করানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকজন নারী কর্মীকে তাদের পদ ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যেতে বলা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছু কর্মস্থলে তাদের পরিবর্তে পুরুষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।