
নিজস্ব প্রতিবেদক: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং যৌতুক নিরোধ আইনে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী আঃ রাজ্জাক। এ লক্ষ্যে তিনি সম্প্রতি একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
অভিযুক্ত বগুড়া কাহালু উপজেলার নরহট্ট ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃদুল খানের স্ত্রী ও বাসিন্দা৷ যিনি জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার আহমেদাবাদ ইউনিয়নের বড়াই গ্রামের শফিকুল ইসলামের কন্যা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং এনজিআর ১০-২১ নম্বরের মামলাসহ একাধিক থানায় একাধিক ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেন সুমি আক্তার। এসব মামলায় প্রায় নয় বছর ধরে বিচার প্রক্রিয়ায় ভোগান্তির শিকার হন আঃ রাজ্জাক। অবশেষে আদালত প্রতিটি মামলায় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে অব্যাহতি দেন। ভুক্তভোগী আঃ রাজ্জাক ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুর ইউনির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা৷
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, এসব মিথ্যা মামলার কারণে আঃ রাজ্জাক আর্থিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যার পরিমাণ আনুমানিক এক কোটি টাকা। কেন এই ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে না এবং কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আঃ রাজ্জাক বলেন, “আমি যৌতুকবিহীন বিয়ে করেছিলাম। তারপরও আমার বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন মামলা হয়েছে। নয় বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরেছি, অর্থ, সময় ও সম্মান—সবই নষ্ট হয়েছে। এখন ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চাই, যেন অন্তত বাকি জীবনটা শান্তিতে কাটাতে পারি।”
অভিযুক্ত সুমি আক্তারের বিষয়ে জানা গেছে, তার তৃতীয় স্বামী মৃদুল খান বর্তমানে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়েরকৃত একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। এ কারণে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট রায়হান আলী বলেন, “আমার মক্কেল যেহেতু আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন, তাই তিনি ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় ধারাতেই ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। আমরা ইতোমধ্যে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি, যথাযথ ব্যাখ্যা না পেলে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করব।”