
শুক্রবার ভোররাতে ইরানের উপর বড়সড় সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে বোমা বর্ষণ করেছে ইসরাইল। ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের প্রধান এবং দুই জন উর্ধ্বতন পরমাণু বিজ্ঞানীর নিহত হয়েছেন।
হামলায় ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের প্রধান কমান্ডার হুসেইন সালামি নিহত হওয়ার কথােইরান স্বীকার করেছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে।
সেনা প্রধান মোহম্মদ বাঘেরি এবং একাধিক পরমাণু বিজ্ঞানীও প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করছে ইজরায়েল।
এর আগে কখনোই ইসরাইলের পক্ষ থেকে এতোবড় হামলার শিকার হয়নি ইরান। কড়া জবাব দেওয়ার জন্য ইসরাইলের পারমানবিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। এরফলে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি ভয়ঙ্কর যএদ্ধর দামামা বেজে উঠেছে।
‘বিশ্বে একই সঙ্গে ৩টা স্থানে যখন যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে, তখনই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষণগণনা শুরু হবে’-এমন একটা কথা এখন বলাই যায়। কারণ একই সঙ্গে পৃথিবীর তিন দিকে এখন যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।
একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অন্যদিকে ইসরাইল-ফিলিস্তীন যুদ্ধ এবং নতুন করে দামামা বেজে ওঠা ইরান- ইসরাইল যুদ্ধের ত্রিমোহনায় এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব।
এখন কী তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে ?
সেই আশঙ্কাই বেশি। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবী এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে গেছে। আর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
ইসরাইলের এই হামলার মধ্যদিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুরে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও দরপতন শুরু হয়েছে।
অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নাম দিয়ে ইসরাইল এই অভিযান চালিয়েছে। শুধু ঘাঁটিই নয়, ইরানের সামরিক প্রধান ও পরমাণু বিজ্ঞানীরাও এই হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করছে ইজরায়েল।
ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ইরানের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে হামলা চালায়। তেহরান শহরের উপকণ্ঠে বিকট বিস্ফোরণ হয়। ধ্বংস হয় নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্র, যেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, তেহরানে, ফোর্ডো ও ইসফাহানে থাকা অন্যান্য সামরিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রেও হামলা হয়।
ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই আক্রমণ ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত, যৌথ ও সুনির্দিষ্ট। লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু অস্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদে জড়িত সামরিক ঘাঁটি।
ইরান এখনই পাল্টা হামলার ঘোষণা না করে দেশজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি তুঙ্গে। তেহরান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ বা ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর মতো ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলিও পাল্টা আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই হামলার পর ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়িই ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
ইজরায়েলি জনসাধারণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইজরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির জানিয়েছেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। যদি কেউ আমাদের আঘাত করতে আসে, তাহলে তাকে তার মূল্য দিতে হবে।’
এই হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেয়নি বলেই সাফ জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও বলেন, ইজরায়েল একতরফা পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা কেবলমাত্র আমাদের সেনাবাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা দিচ্ছি। ইরানের উচিত নয় আমেরিকান স্বার্থে হামলা চালানো।
তবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এই অভিযানের জন্য প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ইরানকে পরমাণু বোমা বানানো থেকে আটকানোর নেতৃত্বের জন্য আমি তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
ইরাক তার আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ হাই অ্যালার্টে জারি আছে। তেলের দাম অস্থির। বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে পতন শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়েই সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।