
ময়মনসিংহ জেলার ইশ্বরগঞ্জ থানার বাসিন্দা এম এ মুরাদ। ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ এবং পরবর্তীতে ইশ্বরগঞ্জ থানা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। যুবলীগের দাপটকে কাজে লাগিয়ে অযোগ্য হওয়া সত্বেও তদবির করিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশ বেতারে ধারাভাষ্যকার হিসেবে যুক্ত হন। পার্শ্ববর্তী জেলা নেত্রকোণার বাসিন্দা সাবেক ফুটবলার আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হওয়ার পর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয় নি।
আরিফ খান জয়ের সহযোগী হওয়ায় ফুটবল ফেডারেশনের মিডিয়া কমিটির সদস্য হন মুরাদ। তার সুপারিশে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকার হিসেবে নাম লিস্ট করেন। জয়ের সুপারিশে জুনিয়র হওয়া সত্বেও সিনিয়রদের সিরিয়াল ব্রেক করে বাংলাদেশ বেতার টিমের সাথে ধারাভাষ্যকার হিসেবে বিদেশ সফরে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ধারাভাষ্যকার এবং বেতার কর্মকর্তা বলেন, এতে সিনিয়র ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে চরম অসন্তুষ্টি দেখা দেয়। এ সকল অনিয়মের কারণে বাংলাদেশ বেতার এখন বিদেশ সফরে গিয়ে খেলা সম্প্রচার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
মুরাদ তার রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন তো বটেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সমস্ত প্রোগ্রামে উপস্থাপনা করত।

শেখ হাসিনার সাথে পুরস্কার গ্রহণের সেই ছবি তার ফেসবুক প্রফাইলে গত ৫ই আগষ্টের আগ পর্যন্ত ছিল। এবং নিজেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের বড় নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর সেই ছবি ডিলেট করে দেয়।
শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর এখন সে নিজেকে যুব দলের কর্মি হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাবেক ফুটবলার ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের ছত্রছায়ায় এসেছে। সে কখন কবে কার সাথে কোথায় যুব দল করেছে তার কোন প্রামাণ দিতে পারেনি। বর্তমান বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত জিয়া স্মৃতি ক্রিকেট, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট, জিয়া আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্টে ধারাভাষ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও আমিনুল হকের নাম ব্যবহার করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সকল খেলায় সে ধারাভাষ্য দিয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫ এর চূড়ান্ত পর্বের খেলার জন্য তাঁরা দুইজন ধারাভাষ্যকার কে আমন্ত্রণ জানান। অতঃপর মুরাদ সেই খেলায় ধারাভাষ্য দেয়ার সুযোগ পেতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জনাব আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে যোগাযোগ করে। তিনি বলেন, এবছর ইতোমধ্যে দুজন ধারাভাষ্যকার কনফার্ম করেছি। নেক্সট ইয়ার আপনাকে আমরা জানাব। এরপর আমিনুল হকের পিএস পরিচয় দিয়ে একজন ফোন করে মুরাদকে ধারাভাষ্যকার হিসেবে নেয়ার চাপ দেয়। অতঃপর বাধ্য হয়ে মুরাদকে ধারাভাষ্য প্যানেলে যুক্ত করতে হয়।