
গত ১৫ জুলাই ২০২৫ খ্রি. তারিখ সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শান্তিনগর এলাকা থেকে মাত্র ০৭ (সাত) মাস বয়সী শিশু অজিহা আহমেদ নূরকে অপহরণের ঘটনা ঘটলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে শান্তিনগর এলাকার কবরস্থান সংলগ্ন বাবুল মিস্ত্রির বাড়িতে বসবাস করত।
অপহরণের সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুজ্জামান অপারেশন অফিসার এসআই(নি.) নুর ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) কাজী আবিদ হোসেন, এসআই(নিঃ) মোঃ কাউসার হামিদ, এসআই(নিঃ) মোস্তফা কামাল, এএসআই মোঃ আনোয়ার হোসেন, এএসআই মোঃ সবুজ হোসেন ও নারী কনস্টেবল/৫৩৫৬ লাকি রানী দেব’ দের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম গঠন করেন। উক্ত টিম গোপন সূত্রের ভিত্তিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে অভিযানিক টিম জানতে পারে সুমাইয়া নামের একটি মেয়ে ভিকটিমকে অপহরণ করে কক্সবাজার জেলার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। উক্ত সংবাদ ভিত্তিতে অভিযানিক টিম ভিকটিমকে উদ্ধারের নিমিত্তে কক্সবাজার জেলার অভিমুখে অভিযানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে সুচতুর অপহরণকারী সুমাইয়া বার বার তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করতে থাকে। একপর্যায়ে অপহরণকারী সুমাইয়া ভিকটিমকে নিয়ে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানাধীন উত্তর বরইতলী এলাকায় আত্মগোপন করতেছে সংবাদ পেয়ে আভিযানিক টিম বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেরে অপহরনকারী সুমাইয়া ও জনৈক ব্যক্তি ঘটনাস্থল হতে ভিকটিমকে নিয়ে অন্যত্রে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে অভিযানিক দল আরো তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, অপহরণকারীরা কক্সবাজার জেলার রামু থানাধীন গর্জনিয়া ইউনিয়নের মায়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা গহীন পাহাড়ি এলাকা দক্ষিণ মৌলভীকাটা গ্রামে অবস্থান করতেছে। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে অভিযানিক টিম রামু রামু থানা পুলিশের সহায়তায় দক্ষিণ মৌলভীকাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১৬ জুলাই ২০২৫ খ্রি. ভোর ০৪.৩০ ঘটিকায় জনৈক জালাল আহমদের বাড়ী হতে ভিকটিমকে অপহরনকারী ০১) সুমাইয়া আক্তার (১৯), পিতা- আব্দুল মুজিব, মাতা- রহিমা খাতুন, সাং-ভালুকখাইয়া, গর্জানিয়া, (আব্দুল মুজিবের বাড়ী), থানা- নাইক্ষ্যংছড়ি, জেলা-বান্দরবান, ০২) মোঃ নুরুল আলম (৪০), পিতা- মৃত জালাল আহামেদ, মাতা- ছফুরা খাতুন, সাং- দক্ষিণ মৌলভী কাটা (জালাল আহামেদের বাড়ী), পোঃ- চাকঢালা, থানা-রামু, জেলা-কক্সবাজার দ্বয়ের হেফাজত হতে উদ্ধার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে অপহরন করেছে মর্মে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।