
বগুড়ায় মৃত হাবিবুর রহমান খোকনের স্ত্রী ফারজানা আক্তার বাদী ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৭ থেকে ৮ জনকে আসামী করে, সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। স্ত্রী ফারজানা আক্তার মামলায় উল্লেখ করেন আমার স্বামী হাবিবুর রহমান খোকন (৩৭) পিতা আবুল কালাম আজাদ, সাং মালতিনগর দক্ষিণপাড়া। খোকন রেন্ট-এ কারের ব্যবসা করতো। সে ১১নং ওয়ার্ড যুবদলের সক্রিয় সদস্য ছিলো। শহরের সেউজগাড়ী এলাকার জনৈক পাভেলকে কিছু দুস্কৃতিকারী হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করলে আমার স্বামী ও তার বন্ধু বাধন (৩০), পিতা মৃত আ: রশিদ সাং ভাই পাগলার মাজার। গত ২৭ অক্টোবর রাত অনুমানিক ৮ টার সময় মোটর সাইকেল যোগে জনৈক পাভেলকে দেখার উদ্দেশ্যে শহরের সেউজগাড়ী, পালপাড়া, আনন্দ আশ্রমের উত্তর পার্শ্বে জনৈক আব্দুল সাত্তারের বাড়ির সামনে রাস্তার উপরে পৌছা মাএই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী খুনি আসামিগণ তাহাদের হাতে রামদা চাইনিজ কুড়াল হাসুয়া, চাকু, লোহার রড ও মারাত্মক অস্ত্র সস্ত্র সহ পূর্ব ও পরিকল্পিতভাবে আসামি ১নং মুন্না পিতা ফটু সাং কৈচর, ২নং সামিউল পিতা মো: খোকন সাং সেউজগাড়ি বগুড়া নার্সিংহোম, ৩নং রকি (৩২) পিতা শাজাহান সাং সেউজগাড়ি রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন, ৪নং সিয়াম (২৩) পিতা মো: আনোয়ার সাং সেউজগাড়ী রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন, ৫নং সাগর (২৫) পিতা ছাইফুল সাং সেউজগাড়ী রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন, ৬নং ধলা (২৪), ৭নং মেহেদী (২১), উভয়ের পিতা মৃত ওকিমুদ্দিন, পালিত পিতা মোঃ শহিদুল ইসলাম মশো সেউজগাড়ী, রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন, ৮ নং কাকন (২৫), পিতা মোজাফফর, ৯নং মাহিন (২১), পিতা জিল্লার
সেউজগাড়ী রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন, ১০নং শাহীন (২৬) পিতা -আবু সাঈদ সাং- কৈচর ১১নং-শাওন (২৫)পিতা-আইনুল সেউজগাড়ী রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন।
১২ নং শুভ (৩০) পিতা ফটিক, সাং ছিলিমপুর, ১৩ নং শুভ আল ইমরান (২৫) পিতা মৃত ছামছুল প্রাং, সাং নারুলী দক্ষিণপাড়া, ১৪ নং
রাশেদ (২২) পিতা আমজাদ, সাং জালশুকা, ১৫ নং
ফেরদৌস (২৪) পিতা শহিদুল ইসলাম, সাং চকলোকমান উল্কা মাঠ, উভয়ের থানা শাজাহানপুর। ১৬নং মোঃ নান্টু (২৫) পিতা সাইদুল, সাং জামিলনগর, ১৭নং মোঃ রাফিদ (২২), সাং সেউজগাড়ী (পালপাড়া), সকলের থানা ও জেলা বগুড়াগণসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন আসামী আমার স্বামীর মোটর সাইকেল পথরোধ করে। পরে আমার স্বামী কারণ জিজ্ঞাসা করামাত্রই সকল আসামীগণ আমার স্বামী হাবিবুর রহমান খোকন ও জখমী বাধনকে এলোপাতারী মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে ২নং আসামী ছামিউল হুকুম দেয় যে, শালাকে মেরে শেষ করে ফেল। উক্তরুপ হুকুম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১নং আসামী মুন্না তার হাতে থাকা রাম দা দ্বারা আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে, উক্ত আঘাতে আমার স্বামীর মাথার পিছনে লাগে, গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। ৩নং আসামী রকি তার হাতে থাকা ধারালো রাম দা দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করলে উক্ত আঘাতে মাথার পিছনে ডান পার্শ্বে লাগে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। ২নং আসামী ছামিউল তার হাতে থাকা ধারালো রাম দা দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার স্বামীর মাথায় আঘাত করলে। আঘাতে মাথার পিছনে ডান পার্শ্বে কানের উপর লাগে গুরুতর রক্তাক্ত ও জখম হয়। ৪নং আসামী সিয়াম তার হাতে থাকা হাসুয়া দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে, মাথায় আঘাত করে, ৫নং আসামী সাগর রাম দা দ্বারা মাথায় অঘাত করলে, বাম হাত দ্বারা ঠেকাইলে বাম হাতের অনামিকা আঙ্গুল কাটিয়া ঝুলিয়া পরে। ৬নং আসামী ধলা হাসুয়া দ্বারা মাথায় আঘাত করে, বাম হাত দ্বারা প্রতিহত করিলে, বাম হাতের মধ্যমা আঙ্গুল ও কনিষ্ঠ আঙ্গুল কেটে যায়। ৭নং আসামী মেহেদী চাকু দ্বারা পিঠের ডান পার্শ্বে আঘাত করে গুরুতর করে। খোকন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গেলে ৮-৯ নং আসামী কাকন ও মহিন হাসুয়া দ্বারা ডান হাতের কনুইয়ের উপরে ও বাম পায়ের গোড়ালীর উপরে হাড়সহ কাটিয়া চামড়ার সঙ্গে ঝুলিয়া থাকে। ১০-১১ নং আসামী শাহিন ও শাওন বাম পায়ের হাটুর উপরে ও নিচে আঘাত করে। ১৩-১৪নং আসামী শুভ আল ইমরান ও রাশেদ রাম দা দ্বারা ডান পায়ের গোড়ালী ও বাম পায়ের হাটুর উপরে আঘাত করে। ১২-১৫ নং আসামী শুভ ও ফেরদৌস রামদা দ্বারা দুই হাতের কবজিতে এবং তালুতে পর পর আঘাত করে। ১নং আসামী মুন্না আমার স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য হাতে থাকা রামদা দ্বারা মাথায় আঘাত করে। ১৩-১৪নং আসামী শুভ আল ইমরান ও রাশেদ রামদা দ্বারা বাধনের পিঠে চারটি আঘাত করে। ১৫, ১৬ ও ১৭ নং আসামী ফেরদৌস, নান্টু ও রাফিদ রামদা দ্বারা আমার স্বামীর বন্ধু বাধনকেও রক্তাক্ত জখম করে। পরের স্থানীয় লোকজন আহত হাবিবুর রহমান খোকন ও বাধনকে অজ্ঞাত অটো রিক্সা যোগে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার হাবিবুর রহমান খোকনকে মৃত ঘোষণা করে। বাধনকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।
বগুড়া সদর থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে সুরতহাল ও ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। হাবিবুর রহমান খোকনের দাফন শেষে সাক্ষী বাধন ও আত্মীয় স্বজনের সাথে আলোচনা করে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হলো।