
খুলনা জেলার রূপসা উপজেলায় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি মামলা দায়ের হয়েছে।
এ ঘটনায় ভূক্তভোগি খাদিজা খাতুন, ইমদাদুল ইসলাম, ইমরান শরিফ ও শিরিনা বেগম পৃথক অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার ( ২৫ শে নভেম্বর ) দুপুর ১২টায় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে নানা অভিযোগের কাহিনী তুলে ধরেন ভূক্তভোগি মহল।
তার বিরুদ্ধে ২৯ লাখ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের নিকলাপুর গ্রামের খোড়ার বটতলা এবি ব্যাংক শাখার এজেন্ট ব্যবসায়ী ও আল-ফালাহ সমবায় সমিতি স্বত্ত্বাধিকারি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলকায় বিভিন্ন জনের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠার সুবাদে তিনি কৌশলে মোটা অংকের এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। রূপসা উপজেলার জয়পুর গ্রামের মিনাবাড়ি রোডস্থ এলাকার মোঃ সেলিম মোল্লার স্ত্রী খাদিজা খাতুনের কাছ থেকে জমি কেনার শর্তে চেকের মাধ্যমে দুই দফায় মোট নয় ( ৯ ) লাখ টাকা গ্রহণ করেন রবিউল ইসলাম।
পরবর্তীতে তিনি জমি ক্রয় করবেন না এমন অযুহাত খাড়া করে জমি ক্রয় করেননি।
এমনকি জমি ক্রয় না করে সমুদয় টাকার মধ্যে মাত্র দুই লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি সাত লাখ টাকা অদ্যবধি তিনি পরিশোধ না করে বহাল তবিয়তে তিনি ব্যবসা- বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
রবিউলের কাছে টাকা চাইতে গেলে তিনি কর্ণপাত না করে নানা অযুহাত খাড়া করে বছরের পর তাকে ঘুরাচ্ছেন।
আরেক ভূক্তভোগি নিকলাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আলতাফ শেখের ছেলে শেখ ইমদাদুল ইসলামকে এক লাখ দশ হাজার ইট দিবে এমন শর্তে প্যাড ও ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে ২০২১ সালের আগস্ট মাসে সাত ( ৭ ) লাখ টাকা গ্রহণ করেন এজেন্ট ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম।
আরেক ভূক্তভোগি রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত: মতিয়ার রহমান শরীফের ছেলে ইমরান শরিফকে ইট দেওয়ার শর্তে ২০২০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন এবি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম।
ভূক্তভোগি ইমরান শরীফ বিবাদী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে খুলনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি চেক জালিয়াতি মামলা ও তিনটি চেক ডিজঅনার মামলা ( যার নং- ৫২৮, ৫১৩, ৬৩৩, ৬৩৪ ) দায়ের করেন ইমরান শরিফ।
অপর ভূক্তভোগি রূপসার জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আলী হোসেনের স্ত্রী শিরিনা বেগমকে ৯৩ হাজার ইট দেওয়ার শর্তে ২০২১ সালে ইসলামী ব্যাংক, খুলনা শাখার ছয় লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।
এজেন্ট ব্যাংক ব্যবসায়ী টাকা গ্রহণের পর এ পর্যন্ত পাওনা টাকা তিনি পরিশোধ করেননি। প্রতারক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ ও স্থানীয় শালিসী বৈঠক হলেও বিষয়টি তিনি আমলে না নিয়ে ক্ষমতার দাপটে বহাল তবিয়তে তিনি ব্যাংকিং কার্যক্রম ও সমিতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভূক্তভোগি খাদিজা খাতুন বলেন, তার কাছ থেকে জমি কেনার শর্তে চেকের মাধ্যমে নয় লাখ টাকা নিয়েছেন রবিউল।
পরে তিনি জমি ক্রয় করেননি। পাওনা টাকার মধ্যে মাত্র দুই লাখ টাকা দিয়েছেন। বাকি সাত লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করেননি।
ভুক্তভোগি শেখ ইমদাদুল ইসলাম বলেন, এক লাখ দশ হাজার ইট দিবে এমন শর্তে প্যাড ও ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে ২০২১ সালে আগস্ট মাসে সাত লাখ টাকা গ্রহণ করেন রবিউল।
এ পর্যন্ত কোনো ইটতো দেয়নি বরং টাকাও পরিশোধ করেননি।
ভুক্তভোগি ইমরান শরিফ বলেন, তাকে ইট দেওয়ার শর্তে ২০২০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন এবি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম।
তার কাছ থেকে টাকা নিলেও এ পর্যন্ত কোনো ইট দেননি। এমনকি কোনো টাকা দেননি। তার বিরুদ্ধে খুলনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি চেক জালিয়াতি মামলা ও তিনটি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
ভূক্তভোগি শিরিনা বেগম বলেন, রবিউল তাকে ৯৩ হাজার ইট দেওয়ার শর্তে ২০২১ সালে ইসলামী ব্যাংক, খুলনা শাখার ছয় লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। এখনো কোনো ইট দেনননি। এমনকি টাকাও পরিশোধ করেননি। তার টাকা চাইতে গেলে নানা অযুহাত খাড়া করেন।
অভিযুক্ত মোঃ রবিউল ইসলামের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।