ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার হতাশার মধ্যে আবারও ১লাখ টন লবণ, লবণ চাষির ভাগ্য যেন সর্বনাশী

 

উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত লবণ চাষ আজ চরম সংকটের মুখে। উৎপাদনে সাফল্য থাকলেও ন্যায্যভাবে বাজার দর না পাওয়ায় লবণ চাষিদের ভাগ্য যেন সর্বনাশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মাসের পর মাস ঘাম ঝরিয়ে মাঠভরা লবণ উৎপাদন করেও গুনতে হচ্ছে লোকসান। এরই মধ্যে সরকার নতুন করে আবারও ১লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়ে চাষিদের কাটা ঘা’তে যেন লবণ ছিটিয়ে অবস্থা।

লবণ চাষিরা বলছেন; উৎপাদন খরচ বেড়েছে বহুগুণ—শ্রমিক মজুরি, বাঁধ নির্মাণ, পরিবহন ও জমি ইজারার খরচ সবই ঊর্ধ্বমুখী। অথচ বাজারে লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে কম। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

চাষি আবদু রহিম বলেন, “সারাবছরের একমাত্র ভরসা ছিল লবণ। কিন্তু দাম না পেলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”

আরেক চাষি বেলাল জানান, “বিগত দুই সিজন বড়ধরনের লোকসানে পড়েছি। অন্যান্য বছর ১০কানি নিলেও এইবার নিছি ৫কানি। ন্যায্য মূল্য না পেলে আগামী মৌসুমে লবণ চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবো।”

অভিজ্ঞদের মতে, সরকারি নজরদারির অভাব, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং আমদানিনির্ভর নীতির কারণে দেশীয় লবণ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করা হলে এই খাত ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাষিরা অবিলম্বে লবণের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম জোরদার এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার হতাশার মধ্যে আবারও ১লাখ টন লবণ, লবণ চাষির ভাগ্য যেন সর্বনাশী

আপলোডের সময় : 08:12:16 pm, Friday, 9 January 2026

 

উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত লবণ চাষ আজ চরম সংকটের মুখে। উৎপাদনে সাফল্য থাকলেও ন্যায্যভাবে বাজার দর না পাওয়ায় লবণ চাষিদের ভাগ্য যেন সর্বনাশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মাসের পর মাস ঘাম ঝরিয়ে মাঠভরা লবণ উৎপাদন করেও গুনতে হচ্ছে লোকসান। এরই মধ্যে সরকার নতুন করে আবারও ১লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়ে চাষিদের কাটা ঘা’তে যেন লবণ ছিটিয়ে অবস্থা।

লবণ চাষিরা বলছেন; উৎপাদন খরচ বেড়েছে বহুগুণ—শ্রমিক মজুরি, বাঁধ নির্মাণ, পরিবহন ও জমি ইজারার খরচ সবই ঊর্ধ্বমুখী। অথচ বাজারে লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে কম। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

চাষি আবদু রহিম বলেন, “সারাবছরের একমাত্র ভরসা ছিল লবণ। কিন্তু দাম না পেলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”

আরেক চাষি বেলাল জানান, “বিগত দুই সিজন বড়ধরনের লোকসানে পড়েছি। অন্যান্য বছর ১০কানি নিলেও এইবার নিছি ৫কানি। ন্যায্য মূল্য না পেলে আগামী মৌসুমে লবণ চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবো।”

অভিজ্ঞদের মতে, সরকারি নজরদারির অভাব, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং আমদানিনির্ভর নীতির কারণে দেশীয় লবণ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করা হলে এই খাত ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাষিরা অবিলম্বে লবণের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম জোরদার এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।