
বাংলা নববর্ষ বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও চিরায়ত প্রাণের উৎসব। সেই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার কাহালু উপজেলার ভালশুন উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩। গত ১৪ এপ্রিল সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শোভাযাত্রায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এতে গ্রামীণ ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি ও বাঙালির চিরায়ত রূপ ফুটে ওঠে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ভালশুন পূর্বপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি ও বিদ্যালয়ের সাবেক সফল সভাপতি শফিকুল ইসলাম রানা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এক অনন্য উপলক্ষ। নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ খন্দকার আঃ বাছেদ। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বইয়ের পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চা একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ কেবল উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও নাটিকার মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরে। পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে। উল্লেখ্য, পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন, যা মুঘল সম্রাট আকবরের সময় থেকে প্রচলিত বাংলা পঞ্জিকার সূচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে এই পঞ্জিকার প্রবর্তন করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি বাঙালির সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। সব মিলিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর বাঙালিয়ানা চেতনায় ভরপুর এক উৎসবমুখর পরিবেশে ভালশুন উচ্চ বিদ্যালয়ে পালিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।