
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চল, বন্যা ও নদীভাঙনকবলিত এলাকার ৪ হাজার ২০০ প্রান্তিক পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ ও এসকেএস ফাউন্ডেশন।
শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি পৃথক কেন্দ্রে সুশৃঙ্খলভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিটি পরিবারকে দুই কেজি করে গরুর মাংস প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে এই মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে সাঘাটা উপজেলার এসকেএস রিসোর্স সেন্টারে ১২০টি গরু কোরবানি করা হয়। পরে এসব মাংস প্রক্রিয়াজাত করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহীম আকন্দ সেলিম, উপপরিদর্শক (এসআই) শুকুমার রায়, উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কামাল পাশা এবং এসকেএস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আশরাফুল আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এই কর্মসূচির আওতায় সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর, সাঘাটা, ভরতখালী, পদুমশহর, কামালেরপাড়া, জুমারবাড়ী, ঘুরিদহ ও হলদিয়া ইউনিয়ন এবং ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, ফুলছড়ি, উদাখালী ও উড়িয়া ইউনিয়নের পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
মাংস বিতরণের জন্য সাঘাটা উপজেলার ভরতখালীতে এসকেএস রিসোর্স সেন্টার, জুমারবাড়ী ইউনিয়নে জিকেএস অফিস প্রাঙ্গণ এবং ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
মাংস নিতে আসা অসহায় নারী-পুরুষের চোখেমুখে ছিল স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। অনেকেই জানান, সারা বছর মাংস কেনার সামর্থ্য না থাকলেও ঈদের দিনে সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে পেরে তারা খুশি। কারও কারও ভাষায়, এই সহযোগিতা শুধু খাদ্য নয়, বরং মানবতা ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
স্থানীয়দের মতে, চরাঞ্চল ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। কারণ অনেক পরিবার রয়েছে, যারা ঈদের সময়ও কোরবানি দেওয়ার সুযোগ পান না। ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ ও এসকেএস ফাউন্ডেশনের এই আয়োজন তাদের ঈদের আনন্দকে করেছে পরিপূর্ণ।