
ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় গ্রাম আদালত বিষয় সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের অংশ গ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালত এই শ্লোগানে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয় করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষের হলরুমে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার ভূমি সৈয়দা তামান্না হুরায়রা।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালত হলো সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য, দ্রুত এবং স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। সদর উপজেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষ সহজেই স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার পাবে এবং আদালতের ওপর চাপও কমবে।
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী কৃষ্ণ চন্দ্র রায় এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক বিরোধ, চুক্তি বা রশিদভিত্তিক অর্থ আদায়, অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা তার মূল্য আদায়, স্থাবর সম্পত্তি বেদখলের এক বছরের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধার, অস্থাবর সম্পত্তি জবরদখল এবং স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলাসহ বিভিন্ন বিরোধ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায়।
তারা আরও বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি সম্ভব হবে এবং উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সেবাসমূহ সাধারণ মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু আহসান মোঃ রেজাউল হক,উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শরীফ আহাম্মদ, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আসাদুজ্জামান,বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্প সমন্বয়কারী আবু সামিউল প্রধান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রোগ্রাম অফিসার নাসিমা খাতুন,ব্র্যাক ময়মনসিংহের শাখা ব্যাবস্থাপক কানিজ ফাতেমা,স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি ময়মনসিংহের প্রকল্প ব্যাবস্থাপক ইমন সরকার,মাটি সমিতির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সানজিদা আক্তার বর্ষা, পিসিসি কালিঝুলি ময়মনসিংহের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রাজন বিন,ব্যুরো বাংলাদেশ সমিতি ময়মনসিংহের তালতলা খাগডহর শাখার আঞ্চলিক উর্ধতন কর্মসূচি সংগঠক কৃষি রবিউল ইসলাম,উপজেলা উমেন ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলেটর সানজানা আফরোজ পপি প্রমুখ।