
সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও অনেক সময় প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে দেখা হওয়া বা যোগাযোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়। একই শহর, অভিন্ন বন্ধু বা কর্মক্ষেত্রে কাজ করার সুবাদে এমনটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এমনকি বিচ্ছেদের অনেক পরে হঠাৎ কোনো মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা পাওয়াটাও বিচিত্র নয়। টালিউডের জনপ্রিয় জুটি দেব ও শুভশ্রীর কথাই ধরা যাক, ব্যক্তিগত জীবনের বিচ্ছেদের পরও তাঁরা পেশাগত প্রয়োজনে পর্দায় ফিরছেন এবং দারুণ রসায়ন বজায় রাখছেন। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই সমীকরণটি সবসময় সহজ হয় না। প্রাক্তনের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে নিজের মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মান রক্ষায় ৫টি ‘ডু’ বা করণীয় এবং ৬টি ‘ডোন্ট’ বা বর্জনীয় বিষয় মেনে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।
করণীয় ৫টি বিষয়
১. নিজের অনুভূতিকে প্রাধান্য দিন: বিচ্ছেদের পরপরই বন্ধু হওয়ার তাড়াহুড়ো করবেন না। যদি এখনো কষ্ট বা রাগ থেকে থাকে, তবে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়। নিজেকে সময় দেওয়া দুর্বলতা নয়, বরং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার একটি প্রয়োজনীয় ধাপ।
২. যোগাযোগের সীমা নির্ধারণ করুন: প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে তা কতটা হবে, তার একটি সীমা ঠিক করে নিন। গভীর রাতে ফোন বা নিয়মিত চ্যাট পুরোনো আবেগকে উসকে দিতে পারে। দেব-শুভশ্রীর মতো পেশাদার দূরত্ব বজায় রাখলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়।
৩. সামনাসামনি দেখা হলে ভদ্রতা বজায় রাখুন: কর্মক্ষেত্র বা আড্ডায় দেখা হলে অতীতের হিসাব না কষে সৌজন্যমূলক আচরণ করুন। একটি সাধারণ অভিবাদন বা কুশল বিনিময় মানেই সম্পর্কে ফিরে যাওয়া নয়।
৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতন থাকুন: প্রাক্তনের প্রতিটি পোস্ট বা ছবি নিয়মিত দেখার অভ্যাস থাকলে নিজেকে প্রশ্ন করুন, এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো। প্রয়োজনে আনফলো বা মিউট করে নিজের জন্য সীমারেখা তৈরি করুন।
৫. অতীত থেকে শিক্ষা নিন: প্রাক্তনকে কেবল ‘ভুল মানুষ’ হিসেবে না দেখে, সম্পর্ক থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলো ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগান। নিজের কোন আচরণে সমস্যা ছিল বা কী ভালো ছিল, তা নিয়ে ভাবলে পরবর্তী জীবন আরও পরিণত হবে।
বর্জনীয় ৬টি বিষয়
১. একাকিত্বে যোগাযোগ করবেন না: বিশেষ করে রাতের বেলা একাকী লাগলে প্রাক্তনকে মেসেজ করার প্রবণতা বাড়ে। মনে রাখবেন, একাকিত্ব আর ভালোবাসা এক নয়। এমন মুহূর্তে নিজেকে সামলানো জরুরি।
২. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বন্ধ করুন: প্রাক্তন কোথায় যাচ্ছেন বা কার সঙ্গে ছবি দিচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে নিজের বর্তমান জীবন থেকে মনোযোগ সরে যায়। নতুন সঙ্গীর সঙ্গে তুলনা করা বা নজরদারি করা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।
৩. নতুন সঙ্গীর সঙ্গে তুলনা করবেন না: বর্তমান সঙ্গীকে প্রাক্তনের সঙ্গে তুলনা করা নতুন সম্পর্কের জন্য অন্যায্য। প্রতিটি মানুষ ও সম্পর্ক আলাদা, তাই নতুন সম্পর্কে পুরোনো ছায়া টেনে আনবেন না।
৪. প্রাক্তনের নতুন সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করবেন না: প্রাক্তন কার সঙ্গে মিশছেন বা নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন কি না, তা নিয়ে বন্ধুদের কাছে আলোচনা বা ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এটি পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
৫. বন্ধুত্বের নামে ঘনিষ্ঠতা ধরে রাখবেন না: যদি একজন এখনো ফিরে পাওয়ার আশা করেন, তবে সেই বন্ধুত্ব কেবল কষ্টই বাড়াবে। দুজনেই অতীত মেনে নিয়ে সামনে এগোতে পারলেই কেবল প্রকৃত বন্ধুত্ব সম্ভব।
৬. নতুন সম্পর্কে তাড়াহুড়ো করবেন না: প্রাক্তনকে ভুলে যাওয়ার উপায় হিসেবে নতুন কাউকে ব্যবহার করা ঠিক নয়। নিজেকে পর্যাপ্ত সময় দিন এবং আপনি সত্যিই নতুন সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত কি না, তা যাচাই করুন।
সব সম্পর্কই বন্ধুত্বে রূপ নেওয়ার উপযোগী নয়। যদি যোগাযোগ আপনাকে বারবার কষ্ট দেয় বা আপনার ব্যক্তিগত সীমানাকে সম্মান না করা হয়, তবে যোগাযোগ বন্ধ রাখাই উত্তম। বিশেষ করে বিষাক্ত বা নির্যাতনমূলক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা সবার আগে। মনে রাখবেন, প্রাক্তনকে ভুলে যাওয়া কোনো প্রতিযোগিতা নয়, আবার বন্ধুত্ব রাখাও কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। যে সিদ্ধান্ত আপনার মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মান বজায় রাখে, সেটিই সেরা। কিছু সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর সমাপ্তি হলো সেখান থেকে শান্তভাবে এগিয়ে যাওয়া।