
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন অত্যন্ত বিতর্কিত ও কড়া মন্তব্য করেছেন। ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় ৫৪ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা দাবি করেন, ইরানিদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, মিথ্যা বলাটা ইরানিদের ধর্মের একটি অংশ। এ সময় তার পেছনে রিপাবলিকান দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন। জনসনের এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক ব্যবহারকারী তার এই বক্তব্যকে পুরনো কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
দুই দেশের মধ্যকার এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত সহসা শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সোমবার সকালে ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, তারা ইরানের ওপর কঠোর আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ইরান যেসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, তার মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব কটিই মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে যে ক্ষেপণাস্ত্রটি আটকানো সম্ভব হয়নি, সেটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন যে, সংঘাতের আগে থেকেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যদের সামুদ্রিক মাইনসহ রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল। মূলত রবিবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনীর হামলার পরপরই ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা থেমে থেমে যুদ্ধের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে রেভল্যুশনারি গার্ডের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, মার্কিন হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন যোদ্ধা এবং সাধারণ দেশবাসী হতাহত ও শহীদ হয়েছেন। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। এওএল, হাফপোস্ট ও রয়টার্সের বরাতে পাওয়া এই তথ্যগুলো দুই দেশের মধ্যে চলমান চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর দেশটিকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের হতাশার মূল কারণ হলো তাদের ওপর আস্থা রাখতে না পারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা আলোচনার টেবিলে বসে এক কথা বলে, আর সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে ঠিক তার উল্টো কাজটি করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও যোগ করেন, তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে এমনটা মনে হয় যে, যাদের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ রয়েছে, তাদের কাছে মিথ্যা বলাটা যেন তাদের ধর্মেরই একটি অংশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রিপাবলিকান নেতার এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এক্সে থাকা নেটিজেনরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটি সেই পুরোনো কৌশল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা করছে, তার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও লেখেন, এই কৌশল বেশিদিন টিকবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যারা আপনার কথায় বিশ্বাস করছে, সত্যটা সামনে এলে তারাই সবচেয়ে বেশি হতাশ হবে।