
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫ম তলায় নতুন করে খোলা হয়েছে পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড। তবে ডাক্তার, ওষুধ ও জনবল সংকটের মধ্যেই চলছে চিকিৎসাসেবা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু হওয়ায় আশপাশের অন্যান্য উপজেলা থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ১০ হাজার ৮০৩ জন রোগী। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭৯৫ জন এবং ভর্তি হয়েছেন ৯৮২ জন। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ৩৯৩ জন। একদিনে সর্বোচ্চ ৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ার রেকর্ডও রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত এক মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাসেল বলেন, “নামে ১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে জনবল, ওষুধ ও খাবার সরবরাহ রয়েছে ৫০ জন রোগীর জন্য। বর্তমানে ৮৮ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৩৯ জন ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত।”
তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। কর্মস্থলে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তারা বাড়িতে ফিরে এসে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।”
হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ডা. রাসেল ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের ওষুধ, জনবল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা—সব ক্ষেত্রেই রয়েছে অপ্রতুলতা। দ্রুত হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে প্রথম শ্রেণির চিকিৎসকের ৪৫টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ১২ জন। এর মধ্যে ৫ জন অন্যত্র প্রেষণে কর্মরত এবং ২৮টি পদ শূন্য রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৫টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৩৪ জন। তৃতীয় শ্রেণির ১২৪টি পদের বিপরীতে আছেন ৭০ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯ জন।
হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৩০টি জনবলের পদের বিপরীতে প্রায় ১৩০ জনবল দিয়ে বর্তমানে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনবল সংকটের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মাহমুদুল হাসান শুভ, কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি 



















