1. reporter@youthtvnewsbd.com : reporter :
  2. youthtvnews2019@gmail.com : youthttvnews24 :
হিমাচলে হিমবাহ গলে বাড়ছে ঝুঁকি, ৯টি হ্রদকে ‘জলবোমা’ হিসেবে চিহ্নিত করলেন গবেষকরা - Youth Tv news
নোটিশ
ইয়ুথ টেলিভিশন এ বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে। এছাড়াও জেলা ব্যুরো প্রধান, বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, স্টাফ রিপোর্টার, ক্যাম্পাস  প্রতিনিধি, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নিয়োগ চলছে। আগ্রহীগণ জীবনবৃত্তান্ত, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের কপি, নাগরিক সনদের কপি ও সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে) সহ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। মোবাইল: ০১৪০৯-৯৯০৪০০, ০১৯৭২-০৮৪৬৯৬।

হিমাচলে হিমবাহ গলে বাড়ছে ঝুঁকি, ৯টি হ্রদকে ‘জলবোমা’ হিসেবে চিহ্নিত করলেন গবেষকরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার

ভারতের হিমাচল প্রদেশের উচ্চভূমিতে হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া হ্রদগুলোর সংখ্যা ও আয়তন দ্রুত বাড়ছে, যা স্থানীয় জনপদ ও অবকাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) মান্ডির গবেষকরা বিশেষ করে ৯টি হিমবাহ-হ্রদকে সম্ভাব্য ‘জলবোমা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের মতে, এসব হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ কোনো কারণে ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের উপত্যকায় নেমে এসে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি করতে পারে।

আইআইটি মান্ডির স্কুল অব সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডেরিকস পি. শুক্লার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল স্যাটেলাইট চিত্র ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক দশকে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ-হ্রদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ দ্রুত গলছে, যা হ্রদগুলোর আকার বড় হওয়ার প্রধান কারণ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হিমাচল প্রদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় ২ হাজার ৭৬টি হিমবাহ-হ্রদ শনাক্ত করা হয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় ৭১০টি বেশি। গত দশ বছরে এসব হ্রদের মোট আয়তন বেড়েছে ২৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গবেষকরা চাম্বা ও লাহুল-স্পিতি জেলার কালিকুন্ড, চন্দ্রতাল, বাসুকি, সুরাই, কিয়া সো, ইয়োচে, সামুদ্্রা তাপু, কাসাং এবং গেপাং গাথ—এই নয়টি হ্রদকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশেষ করে লাহুল-স্পিতি জেলার গেপাং গাথ হ্রদের আয়তন ২ লাখ ৪৪ হাজার বর্গমিটার, কিন্নৌরের কাসাং হ্রদের আয়তন ১ লাখ ৫০ হাজার বর্গমিটার এবং কাঙড়া ও চাম্বা জেলার কালিকুন্ড হ্রদের আয়তন ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার বেড়েছে। এর মধ্যে কালিকুন্ড হ্রদটি খাড়া ঢালের কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এসব হ্রদের সম্ভাব্য বিপদসীমার মধ্যে ১৫টির বেশি সেতু, বিভিন্ন জনবসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র রয়েছে।

গবেষকদের মতে, গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা জিএলওএফ-এর ঝুঁকি মোকাবিলায় স্যাটেলাইট প্রযুক্তির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। হিমবাহ গলার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি পর্যটন বৃদ্ধির ফলে বরফের ওপর জমা হওয়া ধুলাবালিও ভূমিকা রাখছে, যা সূর্যের আলো শোষণ করে বরফ গলার গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া ভূমিকম্প বা ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগও হ্রদের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

সরকারি পর্যায়েও এই ঝুঁকি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় জল কমিশন (সিডব্লিউসি) ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) হিমাচল প্রদেশের চারটি হিমবাহ-হ্রদকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে তিনটি আইআইটি মান্ডির তালিকায়ও রয়েছে। সিডব্লিউসি হিমালয় অঞ্চলের ৬৮১টি হ্রদের পানি প্রবাহের পথ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ শুরু করেছে।

ঝুঁকি প্রশমনে হিমাচল প্রদেশ সরকার চারটি বড় হিমবাহ-হ্রদে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ১০৫ কোটি রুপি বরাদ্দ চেয়েছে। শনিবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বছর সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ হিমাচল প্রদেশের পরিবেশগত নাজুক পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছিল যে, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে রাজ্যটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

নেপালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যার ভয়াবহতার পর হিমাচলের এই পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকদের মতে, হিমবাহ-হ্রদগুলোর এই পরিবর্তন ও আয়তন বৃদ্ধি রাজ্যটিতে জিএলওএফ-এর ঝুঁকি যে ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে, তা এখন অনস্বীকার্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালে নজিরবিহীন আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির পর হিমাচল নিয়ে এই সতর্কতা সামনে এল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধারণা করা হচ্ছে, একটি হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে এমন একটি হ্রদে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সময়ে এসব হ্রদের আয়তনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে হঠাৎ হিমবাহ-হ্রদের পানি বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কয়েকটি জনবসতির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রও এসব এলাকার মধ্যে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গবেষকেরা বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল হ্রদগুলোর ওপর নজর রাখতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্ষাকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে উল্লেখ করে বেঞ্চটি বলেছিল, ‘এমন দিন বেশি দূরে নয়, যখন পুরো হিমাচল প্রদেশই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।’।

শেয়ার করুন...

আরো দেখুন...

Copyright © All rights reserved © 2017 Youth Television News.
Verified by MonsterInsights